এডভোকেট হালিমকে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ

মুন্সীগঞ্জে আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায়
অন্য মহিলাকে মামলাভুক্ত আসামি দেখিয়ে জামিনের চেষ্টা করে আদালত কর্তৃক ভুয়া আসামি দাঁড় করানোর ঘটনা সনাক্ত হওয়ার অভিযুক্ত আইনজীবী মো. হালিম হোসেনকে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আদালত ও মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের সুনাম ও ভাবমূতি ক্ষুন্ন হওয়ার কারনে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় আইনজীবী সমিতির হলরুমে সমিতির কার্যকরী কমিটির এক জরুরি সভায় ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে চিঠি প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে এ কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ছালাউদ্দিন ঢালী জানিয়েছেন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে সভায় সমিতির সহ-সভাপতি সুলতানা রোজিনা ইয়াসমিন, সাইফুল ইসলাম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ছালাউদ্দিন ঢালী, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান, সদস্য মোজাম্মেল হোসেন রুমেল, রুহুল আমিন খানসহ সমিতির কার্যকরী পরিষদের ১৫ সদস্যে’র সবাই উপস্থিত ছিলেন। সভায় এডভোকেট মো. হালিমের বিরুদ্ধে জেলা বারের সদস্যপদ বাতিলসহ শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে কেন সুপারিশ পাঠানো হবে না মর্মে তা চিঠি প্রাপ্তির ৩দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল বুধবার মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কম-এ “মুন্সীগঞ্জে ভুয়া আসামি দাঁড় করিয়ে তিরস্কৃত হলেন আইনজীবী, আজ আইনজীবী সমিতির জরুরি সভা”-শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করা হলে আদালতপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ছালাউদ্দিন ঢালী জানান, গত ১০ই নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা একটি জামিনযোগ্য মারামারি মামলার ৪ নম্বর আসামি রিনা আক্তারের (২৮) স্থলে রিমা আক্তার নামে মামলাভুক্ত নয়-এমন এক মহিলাকে গত ১৯ শে নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ১ নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস ইসলামের আদালতে দাঁড় করিয়ে জামিন প্রার্থনা করেন এডভোকেট হালিম হোসেন। এ সময় মামলার বাদী সদর উপজেলার স্বরসতী গ্রামের শফিকুল ইসলাম রতনের স্ত্রী আখি বেগম তার নিযুক্ত আইনজীবী রেক্সনা আক্তার লাকি জামিনের জন্য অন্য মহিলাকে দাঁড় করানো হয়েছে বলে বিচারককে জানান। এতে ঘটনার সত্যতা মিললে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হালিম হোসেনকে তিরস্কার করে জামিন পিটিশনটি দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দিলে আইনজীবী তা প্রত্যাহার করে নিয়ে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ সময় আদালতের বিচারক নার্গিস ইসলাম আদালতে উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভবিষ্যতে কোন আসামির আদালতে সারেন্ডার করে জামিন প্রার্থনা করতে হলে অবশ্যই আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ বারের সব আইনজীবীকেই এডভোকেট হালিম হোসেন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযুক্ত হালিম হোসেন আগেও এ রকম কাজ করেছে। শুধু তাই নয়, অন্যর মামলা ছিনিয়ে নেয়াসহ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাউকে কাউকে বন্ধু বানিয়ে জামিনের নামে মক্কেলদের প্রভাবিত করেছে। কিন্তু ইতোপূর্বে ধরা পড়েনি, এবার পড়েছে।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.