৮৬ হাজার বস্তা সার গায়েব : চার জেলায় সার সরবরাহে অনিশ্চয়তা

বিএডিসির ৮৬ হাজার বস্তা সার গায়েব
ভৈরবে বিএডিসির গুদাম থেকে ৮৬ হাজার বস্তা সার গায়েবের পর চারটি জেলার বিএডিসির ডিলারদের মধ্যে সার বিতরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গতকাল বিএডিসির ভৈরব গুদামে গিয়ে সার না পেয়ে চার জেলার অনেক ডিলার হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

কিশোরগঞ্জ গুদামের সহকারী পরিচালক শহীদুল্লাহ শেখ বলেন, গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার গায়েবের ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

মুন্সিগঞ্জের সার ব্যবসায়ী আমির হোসেন গাজী বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ডিলার। এক সপ্তাহ আগে ১০৩ বস্তা টিএসপি সারের জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সার নিতে এসে পাননি। আমির হোসেন বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ আলু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। আলু চাষের জন্য জমিতে সার দেওয়ার এখনই সবচেয়ে ভালো সময়। অথচ আমাদের জেলায় এক দানা সারও পৌঁছায়নি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সার না পেয়ে অনেক ডিলার ফিরে যাচ্ছেন।

বিএডিসি সূত্র জানায়, ভৈরব গুদাম থেকে ১২ নভেম্বর ৮৬ হাজার বস্তা সার গায়েবের ঘটনা ফাঁসের পর কর্তৃপক্ষ মামলা করে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (সার) রেজাউল করিম ও গুদাম রক্ষক খোর্শেদ আলমকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়েরের পর তাঁদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। গুদামে তালা দিয়ে ওই দুজন পালিয়ে গেলে সার বিতরণে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ভৈরবের এই গুদাম থেকে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ইউরিয়া ছাড়া বিভিন্ন সার সরবরাহ করা হয়।

দুটি তদন্ত কমিটি
সার গায়েবের ঘটনায় গত মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জামিল আহমেদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। এর আগে গত সোমবার বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সংরক্ষণ ও কারখানা) মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।

প্রথম আলো

Comments are closed.