লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডলে কুমারী সোমা আট মাসের অন্তসত্ত্বা

মাসুদ খাঁন: মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের দক্ষিন মেদিনী মন্ডল গ্রামের মাছ বিক্রেতা মোতালেব ফরাজীর কিশোরী কন্যা সোমা আক্তার (১৪) আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা। অনাগত এই সন্তানের পিতা পার্শ্ববর্তী বাড়ির মঙ্গল শেখের বখাটে ছেলে সোমার প্রেমিক আরিফ হোসেন (২৮) বলে দাবী সোমা’র। কিন্তু সন্তার পেটে আসার পর হতে সোমাদের উপর চলছে নানান সামাজিক নির্যাতন। পেটের সন্তান নষ্ট করতে না পেরে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে নানান কুৎসা। সোমাকে পুত্র বধুর স্বীকৃতি দিতেও আরিফের পরিবার কোন মতেই রাজি নয়। তারা সামাজিকভাবে বসে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বিষয়টি মিমাংশার চেষ্টা চালাচ্ছে। নানান চাপের পরে অবশেষে মেয়ের পেটের সন্তানের বৈধতার জন্য মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলা করেছে সোমার পিতা মোতালেব ফরাজী।

সোমা’র বাবা মোতালেব ফরাজী জানান, সোম’ার বয়স যখন ১১ সাড়ে ১১, তখন আমার বড় ছেলে মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এসময় সোমা’র মা তাকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ছিলেন। আমি আমার ব্যবসা নিয়ে বেশির ভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকতাম। এ সময় সোমা’কে বাড়িতে একা পেয়ে পাশের বাড়ির মঙ্গল শেখের ছেলে আরিফ আমার মেয়েকে এসে জ্বালাতন করত। এক সময় তার সাথে আরিফের মন দেয়া নেয়া শুরু হয়। এরই মাঝে আরিফ আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। এক সময় আমার মেয়ে অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বখাটে আরিফকে আমার মেয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে সোমা’র পেটে তার সন্ত্রান স্বীকার করে নিয়ে বিয়ে করতে রাজি থাকলেও তার পরিবারের চাপে সে বিয়ে করতে পারছেনা। এ নিয়ে বারবার আরিফের পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে কোন লাভ হয়নি। পরে স্থানীয় এক মাদবরের কাছে বিচার দিলে সে আরিফের পরিবারকে ডাকায়। কিন্তু তার ডাকে আরিফের পরিবার সারা না দিলে ওই মাদবরের পরামর্শে আমি আমার অবুঝ সন্তানের অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য মুন্সীগঞ্জ আদালতে এ সপ্তায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করি। আমি গরীব। আমাকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমি আমার মাইয়াডার সন্তানের পরিচয় চাই। টাকা পয়াসা চাইনা। অনাগত সন্তান বাপের পরিচয়ে বেচে উঠুক। আপনারা আমাকে একটু সহযোগিতা করেন।

এ ব্যাপারে গত রোববার আরিফের সাথে অলাপ করতে তাদের বাড়িতে গেলে আরিফকে পাওয়া যায়নি। আরিফের মা এই প্রতিবেদককে বসতে দিয়ে নিজে সটকে পরে। পরে স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড মেম্বার রেলি বেগম জানান, এ রকম ঘটনা শুনে বিষয়টি মিমাংশার জন্য সোমার মায়ের কাছে গেলে তারা অপোষ মিমাংসায় রাজি হয়নি। তবে আরিফ বখাটে ও নেশাগ্রস্ত বলে সে স্বীকার করে।

এ ব্যাপারে লৌহজং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হযরত আলী জানান, আমাদের কাছে এখনও এ ধরনের কোন মামলা এসে পৌছেনি। আদালতের নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেয়া হবে।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.