ভুয়া আসামি দাঁড় করিয়ে তিরস্কৃত হলেন আইনজীবী হালিম

আজ আইনজীবী সমিতির জরুরী সভা
অন্য মহিলাকে জামিনের জন্য আদালতে দাঁড় করিয়ে বিচারকের হাতে ধরা পড়লেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. হালিম হোসেন। এ ঘটনায় আদালতের বিচারক ওই আইনজীবীকে তিরস্কারসহ জেলা বারের আইনজীবীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে কোন আসামি আদালতে সারেন্ডার করে জামিন প্রার্থনা করলে আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র আনার নির্দেশ দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ১ নং আমলী আদালতের বিচারক নার্গিস ইসলাম। আইনজীবী মো. হালিম হোসেনের এ কর্মকান্ডের প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতি আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় জেলা আইনজীবী সমিতি আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জরুরী সভা আহবান করেছেন। এ সভায় তার বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ঢালী জানিয়েছেন।

এডভোকেট সালাউদ্দিন ঢালী জানান, গত ১০ই নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা একটি মারামারি মামলার ৪ নম্বর আসামি রিনা আক্তারের (২৮) স্থলে রিমা আক্তার নামে এক মহিলাকে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ১ নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস ইসলামের আদালতে দাঁড় করিয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় মামলার বাদী সদর উপজেলার স্বরসতী গ্রামের শফিকুল ইসলাম রতনের স্ত্রী আখি বেগম তার নিযুক্ত আইনজীবী রেক্সনা আক্তার লাকি জামিনের জন্য অন্য মহিলাকে দাঁড় করানো হয়েছে বলে বিচারককে জানান।

এতে ঘটনার সত্যতা মিললে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হালিম হোসেনকে তিরস্কার করে জামিন পিটিশনটি দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দিলে আইনজীবী তা প্রত্যাহার করে নিয়ে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় আদালতের বিচারক নার্গিস ইসলাম আদালতে উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভবিষ্যতে কোন আসামির আদালতে সারেন্ডার করে জামিন প্রার্থনা করতে হলে অবশ্যই আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। রিমা বেগম নামে ভুয়া এ আসামি একই এলাকার মো. হালিমের স্ত্রী ।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ বারের সব আইনজীবীকেই এডভোকেট হালিম হোসেন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযুক্ত হালিম হোসেন আগেও এ রকম কাজ করেছে। শুধু তাই নয়, অন্যর মামলা ছিনিয়ে নেয়াসহ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাউকে কাউকে বন্ধু বানিয়ে জামিনের নামে মক্কেলদের প্রভাবিত করেছে। কিন্তু ইতোপূর্বে ধরা পড়েনি, এবার পড়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জরুরী সভায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এপিপি মো. সিরাজুল ইসলাম পল্টু ও মামলার বাদীর আইনজীবী রেক্সনা আক্তার লাকি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এডভোকেট হালিমের কারনে আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের কাছে ছোট হয়ে গেলাম।

এ ব্যাপারে এডভোকেট হালিম হোসেন জানান, অসাবধানবশত ভুল হয়ে গেছে। আসামি পক্ষ রিনার পরিবর্তে রিমাকে নিয়ে এসেছে। রিমা এ মামলার ২ নম্বর আসামি সিমার আপন বোন। এ মামলায় সিমা, রিনার পরিবর্তে রিমা ও অপর আসামি আব্দুর রাজ্জাকের জামিন প্রার্থনা করা হয়েছিল।

আসামি সারেন্ডারের বেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র আনার নির্দেশনা আগেই থেকেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আনীত অন্য অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.