জাপানে ৪০তম জেলহত্যা দিবস পালিত

রাহমান মনি: যথাযোগ্য মর্যাদায় জাপানপ্রবাসীরা পালন করেছে ৪০তম জেলহত্যা দিবস। দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে বাংলাদশ আওয়ামী লীগ জাপান শাখা প্রতিবারের মাতা এবারও এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

৯ নভেম্বর টোকিওর হিপাশি তাবাতা চিইকি শিনকোশিৎসুতে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপান শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ মো. আরিফ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা।

সহসভাপতি সলিমুল্লাহ কাজল রকির পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কবি মোতালেব শাহ, আইয়ুব প্রিন্স, সনতু বড়–য়া, মানিক চৌধুরী, কাজী ইনসানুল হক, সুখেন ব্রহ্ম, মোল্লা অহিদুল ইসলাম, রায়হান কবির ভূঁইয়া সুমন, আব্দুর রাজ্জাক, গোলাম মাসুম জিকো, বাদল চাকলাদার, জসীমউদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস, চৌধুরী রহমান লিটন, মুক্তা চৌধুরী, আব্দুর রহমান, খন্দকার আসলাম হিরা এবং সভাপতি সালেহ মো. আরিফ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় এই চার নেতাকে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। নিহত এই চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন। তারা সকলে বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং ছয় দফা আন্দোলনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে বঙ্গবন্ধুর নিকটতম হন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা একটি বর্বরোচিত এবং নৃশংসতম কাজ। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশে ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বর জেল হত্যার মতো এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড আর নেই। খুনি মোশতাক গংরা জানতো যে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এই চার নেতাই শক্ত হাতে আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের হাল ধরতে পারবেন। যেমনটি পেরেছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়। তাই নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই রাতের অন্ধকারে জেলের ভেতর যেটি সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, একটি শিশুর যেমন মায়ের কোল হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, তেমনি জেল হচ্ছে বিচারাধীন, আটককৃতদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে। সেই নিরাপদ স্থানেই দেশের সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। তাও আবার রাতের অন্ধকারে, যে সময় জেল কোড অনুযায়ী ঘুমে থাকার কথা।

বক্তারা বলেন, ঘটনার পরদিনই ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক ডিআইজি (প্রিজন) আব্দুল আউয়াল কর্তৃক দায়ের করা মামলায় দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করেন। এরপর উচ্চ আদালতে ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে মামলার নিষ্পত্তি হলেও দণ্ডপ্রাপ্তদের আজও সাজা ভোগের আওতায় আনা হয়নি। তারা বলেন, অবিলম্বে দণ্ডিতদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

আলোচনা সভার শুরুতে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার চার সহকর্মীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় দলীয় নেতা কর্মী ছাড়াও স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ জাপান শাখার নেতৃত্ব আরিফ-হিরা গ্রহণ করার পর কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ১০ আগস্ট ২০১৪ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. বদিউজ্জামান একই হলে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কমিটিকে আর প্রস্তাবিত কমিটি না বলার আদেশ দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত সকল নিয়ম মেনেই বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়। তাই এটাই জাপানে আওয়ামী লীগের একমাত্র কমিটি।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক