২১০০ প্লট পাবে ক্ষতিগ্রস্তরা

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য বসতি হারানোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারকে দুই হাজার ১০০ প্লট দেওয়া হবে। দ্রুত এসব প্লট হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু বিভাগ। বিভিন্ন জটিলতার কারণে মাঝে থেমে থাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে প্রকল্পের মাওয়া ও জাজিরা অংশে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার পরিবার। সেতুর জন্য মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলায় শুধু ফসলি জমি ছাড়তে হয়েছে আট হাজার পরিবারকে। বসতি স্থানান্তরের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার পরিবার। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো দুই হাজার পরিবার। সব মিলে ১৫ হাজার পরিবারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র মতে, বসতি হারানোয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই হাজার ১০০ প্লট হস্তান্তর করা হবে। এগুলোর মধ্যে আছে আড়াই, পাঁচ ও সাড়ে সাত শতাংশ আকারের প্লট। আড়াই শতাংশের প্লটগুলো পাবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার। তাদের কাছ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মূল্য নেওয়া হবে না। অন্য শ্রেণির ক্ষেত্রে মূল্য নেওয়া হবে। তবে প্লট হস্তান্তরের ১০ বছরের মধ্যে প্লট-গ্রহীতাদের কেউ তা বিক্রি করতে পারবে না- এই শর্ত মেনে নিয়ে প্লট নিতে হবে।

প্রকল্প এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আলাদা চারটি পুনর্বাসন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পের মাওয়া ও জাজিরা- এ দুই অংশে প্রতিটিতে দুটি করে মোট চারটি পুনর্বাসন এলাকার কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো হলো যশলদিয়া, কুমারভোগ, নাওডোবা ও বাকরের কান্দি। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে সেতু বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুনর্বাসন এলাকায় মাটি ভরাট ও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির জন্য ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, মাওয়ায় পুনর্বাসনের জন্য তৈরি অংশে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক রামচন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষ হয়ে গেছে। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা নদীর তীর রক্ষার জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প আগামী ২ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য ১৫৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এই অধিগ্রহণ-প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.