রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ পর্যায়ে

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা-যশোর রেল সংযোগ নির্মাণে সম্ভাব্যতার যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপ শেষে ইতিমধ্যে রেললাইনের খুঁটি গেড়ে সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুতগতিতে চলছে নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র তৈরির কাজ।

রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা-যশোর রুটের ১৬৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ দেশের সাতটি রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রমের চুক্তি হয় ২০১২ সালের অক্টোবরে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমন্বিতকরণ (আরসিআইপি) রেল অংশ প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি হয়। এডিবির ১৩৭ কোটি টাকা অর্থায়নে এ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হলো কানাডিয়ান ক্যানরেইল, অস্ট্রেলিয়ান এসএমসিই, জামার্নির ডিবিএইচ-এনবিএইচ ও বাংলাদেশের এসিই। ছয় মাস ধরে রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে পদ্মা সেতুর রেললাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। রেললাইন হবে সিঙ্গেল লাইন। সমীক্ষায় কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর রেলস্টেশন, শিবচরে দুটি স্টেশন, যশোর ও ভাঙ্গায় একটি করে জংশনসহ কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, নড়াইলে একটি করে স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ভাঙ্গা পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার প্রথম ধাপ ও যশোর পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ ভাগ করে কাজ এগিয়ে চলছে। ১৬৪ কিলোমিটার দূরত্বের এই রেললাইন নির্মাণে উঁচু জমিতে ১২০ ফুট ও নিচু জমিতে ১৫০ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বেসরকারি সংস্থা পল্লী উন্নয়ন আন্দোলন জরিপকাজ করছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ রেললাইনটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পদ্মা সেতুর সঙ্গেই উদ্বোধনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর থেকেই কাজের গতিতে আরো হাওয়া লেগেছে। দ্রুতগতিতে সমীক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই একনেকে তোলা হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর সাবরিজিওনাল রেল ট্রান্সপোর্ট ট্রিপারেটরি ফ্যাসালিস্টের সহকারী পরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম বলেন, ‘পদ্মা সেতুর রেললাইনের সমীক্ষার কাজসহ দরপত্র ও নকশা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধানমন্ত্রী এ রেললাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।’

ভুঁইফোড় বসতবাড়ি-দোকানপাট
পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেলের নেটওয়ার্ক তৈরি শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে এ সুযোগে সম্ভাব্য রেললাইনের ওপর দিয়ে গড়ে উঠছে শত শত অবৈধ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। সরকারের টাকা হাতিয়ে নিতে মূল সেতুর পিলার পয়েন্টগুলোতেও গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ ঘরবাড়ি। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচরের মোল্লাকান্দি, পোদ্দারচর, কাঁঠালবাড়ী, জাজিরার বিভিন্ন গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমির মাঠে গড়ে উঠছে ঘর-বসতি, লাগানো হচ্ছে গাছ। বেশির ভাগই ঘরশূন্য, কেউ থাকে না। পোদ্দারচরে সীমানা নির্ধারণ করা জায়গায় গড়ে উঠেছে একটি বাজার। জাজিরার বিভিন্ন চরেও গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ ঘরবাড়ি। মাদবরচরের মোল্লাকান্দি এলাকায় সম্ভাব্য রেললাইন এলাকার বসতবাড়ি করেছেন নূর জাহান। তিনি বলেন, ‘আমি ভাইগো কাছে এই জায়গাজমি চাইয়া নিছি। কিন্তু বাকি যেই ঘর দেহেন, সবই অবৈধ। ওরা বাড়তি বিল পাইতে এই ঘর দিছে।’

জাজিরার নাওডোবা এলাকার খালেক মিয়া বলেন, ‘মূল সেতুর খুঁটির স্থানগুলায় শত শত ঘরবাড়ি নির্মাণ হইছে সরকারের টাকা মারার জন্য।’

অবৈধ ঘরবাড়ির ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর সাবরিজিওনাল রেল ট্রান্সপোর্ট ট্রিপারেটরি ফ্যাসালিস্টের সহকারী পরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম বলেন, ‘আমরা আরো আগেই জরিপ এলাকার ছবি ও ভিডিও নিয়ে রেখেছি। যারা নতুন করে ঘরবাড়ি তুলছে, তারা কেউ ক্ষতিপূরণ পাবে না।’ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (পুনর্বাসন) নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে জাজিরা অংশে প্রায় ৬০০ অবৈধ ঘরবাড়ি তোলা হয়েছে বিলের জন্য। তাদের উচ্ছেদে মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের কন্ঠ