পদ্মা তীরে হবে হংকংয়ের মতো চোখ জুড়ানো নগরী

বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘ নদীর ওপর দেশের বড় সেতু
সেতু নির্মাণের পর পদ্মা নদীর তীরে হংকংয়ের মতো সুসজ্জিত নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পদ্মা পাড়ে সুসজ্জিত নগরী গড়ার স্বপ্নটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গত ৬ জুলাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) পরিদর্শনে গিয়ে এই স্বপ্নের নগরীর রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী সেখানে নগরায়ণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। পদ্মাতীরে নির্মিতব্য নগরীতে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলন কেন্দ্র, বাণিজ্য ও বিনোদন কেন্দ্র। সেখানে একটা ভালো কনভেনশন সেন্টার করা হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য মেলা করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর স্বপ্ন এখন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। এর নির্মাণে ব্যয় ছাড়িয়ে যাবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণে বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এডিবি ৬১৫ মিলিয়ন ডলার, জাইকা ৪০০ মিলিয়ন ডলার, আইডিবি ১৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঋণচুক্তিও হয়েছিল। তবে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির যড়যন্ত্র অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি বাতিলের পর অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও সরে দাঁড়ায়।

যানবাহন চলবে ১০-১৫ হাজার : সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল সেতুটির ওপরের তলায় থাকবে চার লেনের মহাসড়ক। আর নিচে রেললাইন। ট্রেনের গতিসীমা হবে ১৬০ কিলোমিটার। থাকবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য থাকবে হাইপ্রেশার গ্যাস পাইপলাইন। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর মংলা সমুদ্রবন্দরের ব্যবহার বাড়বে। পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়বে। এতে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয়ও বাড়বে। প্রকল্পে রিসোর্ট, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও দর্শনার্থী কেন্দ্রও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে দুটি টোল প্লাজা থাকবে। রেলসেতু দিয়ে ভারী পণ্য আমদানি ও রপ্তানির সুবিধা থাকবে।

দেশের সবচেয়ে বড় সেতু হবে পদ্মা : সেতু বিভাগের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। ভৈরব সেতু ১ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার। লালন শাহ সেতু ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। মুক্তারপুর সেতু ১ দশমিক ৫২১ কিলোমিটার। খানজাহান আলী সেতুর দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। কিন্তু পদ্মা সেতু হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে বড় সেতু হবে এটি।

১৯৯৮ সালে প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। ২০০১ সালে জাইকার অনুদানে হয় সম্ভাব্যতা যাচাই। ২০০৯-১০ সালে এডিবির কারিগরি সহায়তায় চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন হয়। আশা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের মধ্যে মূল নির্মাণকাজ শেষ হবে।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.