পঞ্জিকায় পদ্মা সেতু

৪ জুলাই ২০০১ : তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯ জানুয়ারি ২০০৯ : সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি অনুমোদিত হয়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। মূল সেতু ও সংযোগ সড়কের কর্মসূচির নকশা (স্কিম ডিজাইন) ২০০৯ সালের আগস্টে ও নদীশাসন কাজের নকশা ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুমোদিত হয়। ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল অনুমোদিত হয় মূল সেতুর নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদারদের প্রাক-যোগ্যতা দলিল।

২৮ এপ্রিল ২০১১ : পদ্মা নদীর যেখানে সেতু নির্মিত হবে, সেখানে ‘ভাষা শহীদ বরকত’ ফেরির ওপর সাজানো মঞ্চে সরকারের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলার অর্থায়নের ঋণচুক্তি করে বিশ্বব্যাংক। এটি সেতু নির্মাণের মোট ব্যয়ের প্রায় ৫২ শতাংশ। আরো ৩০ কোটি ডলারের অঙ্গীকার করে সংস্থাটি।

১৪ মে ২০১১ : আইডিবির সঙ্গে ১৪ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই

১৮ মে ২০১১ : জাইকার সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই

৬ জুন ২০১১ : এডিবির সঙ্গে ৬১ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই

সেপ্টেম্বর ২০১১ : ঋণ চুক্তি কার্যকরের মেয়াদ তিন মাসের জন্য বাড়ায় বিশ্বব্যাংক। সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এডিবি, জাইকাও ২৭ জুন, ২০১২ পর্যন্ত ঋণচুক্তি কার্যকরের মেয়াদ বাড়ায়।

১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ : বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাবেলা এম গরোরা বাংলাদেশ সফরে আসেন। ওই সময় তিনি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করে দুর্নীতির অভিযোগ করেন।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১১ : পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি প্রতিরোধসংক্রান্ত সংস্থা ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে একটি চিঠি দিয়ে তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও তাঁর মালিকানাধীন কম্পানি সাকো ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিবরণ দেয়।

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর ২০১১ : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ওয়াশিংটনে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন দুর্নীতির সুরাহা না হলে অর্থায়ন না করার কথা জানায় সংস্থাটি।

৯ অক্টোবর ২০১১ : অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রে দুর্নীতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

২০ অক্টোবর ২০১১ : পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার প্রেসনোট জারি করে। এতে দুর্নীতি হয়নি দাবি করে তদন্ত করার কথা বলে সরকার।

১৫ ডিসেম্বর ২০১১ : ওয়াশিংটনে বোর্ড সভায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করে বিশ্বব্যাংক। তাতে দুর্নীতির বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অর্থায়ন নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ : অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা ঋণের মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়েছে। সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

২৯ জুন ২০১২ : বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত করে।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.