লাভের আশায় কৃষকরা আবারও রোপণ করছে আলু

ব্যস্ততম সময় কাটছে আলুচাষীদের!
মুন্সিগঞ্জ আলু উপাদন এলাকা হলে এখানকার কৃষকরা আলু জমি তৈরি ও আলু রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। যথাযথ সংরক্ষণ, বিপণন ও রপ্তানীর জন্য সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় মুখ থুবরে পড়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলার আলু নির্ভর অর্থনিতি। বছর, বছর মূলধন হারিয়ে কৃষক এখন দিশেহারা। বিগত বছরগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগী মজুতদার ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও চলতি বছরে ঘটেছে এর ব্যতিক্রম। বাজারে আলুর ব্যাপক দরপতনে মূলধন হারিয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী সহ এ অঞ্চলের কৃষক। এ মওসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক। মুন্সিগঞ্জের আলু চাষাবাদে রয়েছে নানা সমস্যা।

দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সিগঞ্জের আর এখানকার সার্বিক অর্থনীতি অনেকটাই আলুর উপর নির্ভরশীল। একটানা কয়েক বছর আলুর বাম্পার ফলনের পরেও লাভের মুখ দেখেনি কৃষক। উৎপাদন খরচের চাইতে অনেক কম দামে আলু বিক্রি করে সহায় সম্বল হাড়িয়ে কৃষক পথে বসেছে। তার পরেও অন্য কোন ফসল উৎপাদন করতে না পারায় আলু চাষই করে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এ বছর আলু চাষাবাদের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯শ’ ৪২ হাজার হেক্টর। বরাদ্ধকৃত ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বিএডিসির বীজ না আসায় হতাশ কৃষকরা। সারের ঘাটতি না থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৫ দিন বিলম্ব করে আলু চাষ শুরু হয়েছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে সঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

সাতানিখিল ইউনিয়নের আলুচাষী মো. রফিক মোড়ল বলেন, আলু চাষ করি, ভালো লাগে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। আশাকরি উৎপাদন ভালো হবে। আসল টাকা উঠাতে পারলেই হবে।

মুন্সিগঞ্জের ৬টি উপজেলার প্রতিটি এলাকায় এখন আলু চাষের ধুম লেগেছে। কোন কৃষক বসে নেই। তবে বিগত বছরগুলোর মতো উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেতে পারে। সাতানিখিলের অপর এক আলু চাষী বলেন গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ খরচ হবে এ বছর। খরচ যদি হয় ২লাখ টাকা, আলু উৎপাদন হয় দেড় লাখ টাকার।

আলু বীজের চাহিদা দিয়েও এখনো বিএডিসির আলু বীজ মুন্সিগঞ্জে আসেনি। বিদেশ থেকে আমদানী ও কৃষকের কোল্ড স্টোরে রাখা বীজ বপন করছে। অন্য বছরের তুলনায় বিএডিসির বীজ অনেক ভালো উৎপাদন বেশী হবে বলে কৃষি কর্মকর্তা আশাবাদি।

কৃষিবিদ আরো বলেন, ১ সপ্তাহের মধ্যে যে পরিমাণ টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে তা ফুলফিল হবে। ইতিমধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়ে গেছে। তিনি মনে বিএডিসি বীজ বপনে কৃষক ও সরকার উভয়ী লাভবান হবেন। সারের কোন ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত আছে মুন্সিগঞ্জে। এ বছর মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা পরিমাণমত সার বপন করেছে জমিতে।

ধলাগাও বাজারের সারের ডিলার হারুণ অর রশিদ বলেন, সারের কোন ঘাটতি এ বছর নেই। পর্যাপ্ত সার রয়েছে আমাদের কাছে। বীজেরও সমস্য নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুন্সিগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বিএডিসিসের বরাদ্ধকৃত বিজ এখনো মুন্সিগঞ্জে আসেনি, অপরদিকে ৩৬হাজার ৯শ ৪২ হেক্টর জমিতে আলু চাষবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এ বছর। ইতোমধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই চাষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই কৃষিবিদ। তিনি আরো বলেন এ বছর মুন্সিগঞ্জে সারের কোন ঘাটতি বা কমতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রয়েছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছে। সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের আলু চাষাবাদে সংশ্লিষ্ট সকলের।

সংগ্রাম