টঙ্গীবাড়ীতে আলুর বীজ উচ্চ মূল্যে, দিশেহারা কৃষক

ডিএম বেলায়েত শাহিন: টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বীজ আলু সংকটে পরেছে কৃষক। ফলে বীজ আলুর অভাবে আলু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২৮টি হিমাগারে কৃষকরা বীজ আলু সংগ্রহের জন্য ধন্যা দিচ্ছে। ৮০ কেজি ওজনের একবস্তা বীজ আলু হিমাগারে বর্তমানে ২৭০০-২৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত বছর হল্যান্ড হতে আমদানীকৃত বীজ আলুর বাক্রের মূল্য বেশী থাকায় উক্ত আলু কৃষক রোপন করতে না পারায় এ বীজ সংকট দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষক সুত্রে জানাগেছে। তবে এ বছর হল্যান্ড হতে আমদানীকৃত বাক্র বীজ আলুর মূল্য অনেকটা কম থাকায় আগামীবছর বীজ সংকটের সম্ভবনা নাই। বীজ না পাওয়ায় জমি জমা লাগাতে পারছেন না অনেক জমি মালিক। অন্যান্য বছর প্রতি গন্ডা (৭ শতাংশ জমি) যেখানে ৪-৫ হাজার টাকা জমি মালিকরা এক বছরের জন্য জমা লাগাইছেন সেই জমি এ বছর ১৫শত-২হাজার টাকা জমা লাগাচ্ছেন।

তারপরেও জমা নেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে করে অনেক জমি অনাবাদী থেকে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন আলু ও সার বিক্রেতাদের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলায় সারের কোন ঘাটতি নাই। তবে বীজ আলুর উচ্চ মূল্য লক্ষ্য করা গেছে। ব্রাক উৎপাদিত প্রতি কেজি বীজ আলু ৪২-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচেছ। কৃষান সীট্রেড এর বীজ আলু ৪০ কেজির প্রতি বস্তা ১৭০০-১৮০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ এ্যাগরিকালচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএডিসি) আলু প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সরকার উক্ত আলুর বাজার দর ২নং বিএডিসি ২৭ টাকা এবং ১নং বিএডিসি ২৯টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বাজারে বিভিন্ন জেলার নামে ফরিদপুর বিএডিসি, কিশোরগঞ্জ বিএডিসি, জামালপুর বিএডিসি ইত্যাদি নামের আলু বিক্রি হচ্ছে। কতিপয় কৃষক জানালেন, বিএডিসির নামে অনেক ধরণের আলু বিক্রি হচ্ছে এদের মধ্যে হতে আসল বিএডিসি যে কোনটা তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা আরো জানান, প্রতিবছরই নকল বিএডিসি আলু কিনে সর্বশান্ত হতে হয় আনেক কৃষককে।

উপজেলার রাউৎভোগ গ্রামের কৃষক হুমায়ন মাদবর জানান, কোল্ড ষ্টোরে গত বছরের হল্যান্ড হতে আমদানীকৃত আলু হতে যে বীজ হয়েছে তার দাম অনেক বেশি। তাই টঙ্গীবাড়ী বাজারে অন্য বিজের আলু কিনতে আসছি। সে আরো জানায়, বিএডিসির নামে অনেক ধরনের আলু বিক্রি হচ্ছে । কোনটা যে আসল বিএডিসি তা চিনতে পারছিনা।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা মো. গোলাম রায়হান জানান, আলুতো আলুই এটা দেখে চিনার উপায় নেই আসল বিএডিসি না নকল। এটা দোকানদাররা ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছ হতে মেমোতে গেরান্টি লিখা নিয়ে যাওয়াটাই উত্তম কাজ হবে।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.