গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১১ সালে একটি আধুনিক অস্ত্রোপচারকক্ষ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর পর থেকেই সেটি বন্ধ। ছোটখাটো অস্ত্রোপচার গুলো জরুরি বিভাগের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা হচ্ছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়। প্রথমে ৩০ শয্যার হলেও ২০১১ সালে সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক একটি অস্ত্রোপচারকক্ষ নির্মাণ করা হয়। অস্ত্রোপচার করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আছে। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারগুলো জরুরি বিভাগের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা হয়ে থাকে। আর একটু বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হলে রোগীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের বেডগুলো নোংরা ও চাদর ছিঁড়ে গেছে। শৌচাগারগুলোর দুর্গন্ধ ওয়ার্ডের ভেতরে চলে আসছে।

গজারিয়া উপজেলা বালুয়াকান্দির কহিনুর আক্তার পেটব্যথার জন্য ভর্তি হয়েছে। তার মা মাকসুদা বেগম জানান, হাসপাতালের নোংরা বিছানায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পাপড়ি নাসরিন বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য তো আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জন্য প্রস্তুত।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিজন কুমার দাস কমপ্লেক্সের পরিবেশকে স্বাস্থ্যসম্মত দাবি করে বলেন, অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়ে তাঁদেরটার অবস্থা অনেক ভালো।
স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি থাকার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের এখানে আনা হয়। কিন্তু অস্ত্রপচারকক্ষ বন্ধ থাকায় ঢাকায় যাওয়ার পথেই অনেকে মারা যান।

অস্ত্রোপচারকক্ষ বন্ধ থাকা সম্পর্কে বিজন কুমার দাস বলেন, কিছু যন্ত্র না থাকায় অস্ত্রোপচারকক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রথম আলো

Comments are closed.