বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত জাতীয় স্মৃতি সৌধের স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পাঞ্জলিমিশ্রিত শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বুধবার বিকেলে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সকাল এগারোটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত তার মরদেহ শহীদ মিনারের পাদদেশে রাখা হয়। এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, লেখক, সংস্কৃতিকর্মীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের এই স্থপতিকে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সাম্যবাদী দলের পক্ষে দিলীপ বড়ুয়া। এ ছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাসদ, বাসদ ও সিপিবির নেতারা।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছায়ানট, উদীচী, খেলাঘর, নাটকের দল আরণ্যক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সামাজিক আন্দোলন, প্রগতিশীল স্থপতি ফোরাম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ চিকিৎসক ফোরাম, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউিট, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট প্রভৃতি।

ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যজন আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, শিশুসাহিত্যিক আবু সালেহসহ প্রয়াত সৈয়দ মইনুল হোসেনের সতীর্থ ও শুভানুধ্যায়ীরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শেষে বাদজোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধের মহান এই স্থপতিকে।

এর আগে সকালে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে বুয়েটে নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর সেখান থেকে শহীদ মিনারে আনা হলে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দ্য রিপোর্ট