শ্রীনগরে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ!

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরের শতবর্ষী রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও তন্তর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জাকির হোসেনের জালিয়াতিতে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে ঐ বিদ্যালয়েরই পরিচালনা কমিটির আরেক সদস্য অজয় কুমার মুখার্জী তপন। শুধু তাই নয় ওই জমি অজয় কুমার মুখার্জীর নামে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লিজ নেওয়ার জন্য জাকির হোসেন অন্য একজনকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের কাছে ধরা পড়েছেন।

বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে উপজেলা ভূমি অফিস বিদ্যালয়ের নামে লিজ নবায়ন করে দিলেও দখলকারীরা এখনো তাদের ঘর সরিয়ে নিচ্ছেনা। এনিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন ও সদস্য অজয় মুখার্জী স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিজের আবেদনের সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের স্বক্ষরসহ বিদ্যালয়ের প্যাডে ওই জমির ভোগদখল ও মালিকানা বিষয়ে নাদাবীপত্র জমা দেন। বিষয়টি রমেন্দ্র নাথের কাছে সন্দেহ হলে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তারা অন্য একজনকে প্রধান শিক্ষক সাজিয়ে ভূমি অফিসে নিয়ে আসেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগমের কাছে নথীটি প্রেরণ করা হলে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরের ভিন্নতা দেখে তিনি এসিল্যান্ডকে সরজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। এসিল্যান্ড তদন্ত করার আগেই অজয় কুমার ওই জমিতে একটি দোতলা ঘর নির্মাণ করে তা দখলে নেন।

পরে এসিল্যান্ড সরজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আর ভূমি অফিসে উপস্থিত হওয়া প্রধান শিক্ষক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি এক নন। এসিল্যান্ড বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের কাছে নাদাবী পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই নাদাবী পত্রের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জকির হোসেন উন্নয়ন বরাদ্দের কথা বলে তার কাছ থেকে স্কুলের একটি প্যাড নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করে।

এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে এবং এসিল্যান্ডের তদন্তের প্রেক্ষিতে অজয় কুমার মুখার্জীর আবেদনটি নামঞ্জুর করে বিদ্যালয়ের লিজটি নবায়ন করা হয়। নবায়নের পরও দখলকারীরা এখনো তাদের ঘর সরিয়ে নিচ্ছেনা।

এব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভূয়া প্রধান শিক্ষক ও স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, পূর্বের কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অজয় মুখার্জী ওই জমি দখলে নিয়েছে। তবে আমি এলাকার লোকজনদের নিয়ে বসে বিষয়টি দেখব।

Comments are closed.