এ রেড স্যালুট টু স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন…

স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন দীর্ঘদিন জটিল মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটাকে বলা হয় ডিল্যুশন। স্থপতি মাইনুল এই জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। যে কারণে একটা সময় তিনি ভালো কোনো স্থাপত্যকর্ম দেখলেই বলতেন, ওটা ওনার আইডিয়া ছিল। নিশ্চয়ই কেউ ওটা চুরি করেছে। কখনো কখনো অজানা ভয়, আতংক, শংকার কথা বলতেন। কিংম্বা রহস্যময় শাস্তির আতংক তাঁকে তাড়া করতো। চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ধরনের রোগীকে সুচিকিৎসা দিয়ে পুরোপুরি সুস্থ করা সম্ভব বলে দাবী করে। আর এধরনের অনেক রোগী সুচিকিৎসায় ভালো হবার উদাহরণও নাকি আছে।

কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, এক আজব দুনিয়া, যেখানে সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, আমাদের দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানো মিডিয়া, সংস্কৃতির চেতনা বিক্রি করার বড় বড় দালালবর্গ কেউ এই মহান মানুষটির পাশে দাঁড়ায়নি, এটাই এখন ইতিহাস। এমন এক অসভ্য সভ্যতার মধ্যে আমরা বসবাস করছি। ১৯৯১ সালে তাঁর সংসার ভেঙে যাবার পরেও স্থপতি মাইনুল ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে একেবারে নিভৃতে চলে যান। স্থপতি মাইনুল কবি গোলাম মোস্তফার দৌহিত্র। ঢাকার শান্তিনগরে কবি গোলাম মোস্তফার বাড়িটায় তিনি থাকতেন। শেষের দিকে যে ঘরে তিনি বসবাস করতেন, সেই ঘরটির সকল জানালা, দরজা সারাক্ষণ বন্ধ থাকতো। সেই অন্ধকারে মশারির মধ্যে তিনি দিনরাত কি অবর্ণনীয় জীবনযাপন করেছেন।

যে আতংক বা ভয় ওঁনার মস্তিকে সারাক্ষণ তাড়না দিত, সেটি সম্ভবত মানুষ সৃষ্ট কোনো হুমকি। কেউ হয়তো ওনাকে মেরে ফেলার মত হুমকি দিয়েছিল। সেই হুমকিতে হয়তো কোনো শর্ত জড়িত ছিল। যে এটা করলে এই ধরনের বিপদ তাঁর হবে। তাই জানালা-দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে তিনি হয়তো এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ করার চেষ্টা করতেন। একেবারে অপরিচিত কারো সঙ্গে সাক্ষাত পর্যন্ত দিতেন না। যে মানুষটি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি সৌধের নকশা করলেন, সেই মানুষটি এই জাতির কাছ থেকে, এই দেশের মানুষের কাছ থেকে, এই দেশের সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার অভাববোধ থেকেই এভাবে হয়তো সেলফ ডিফেন্স হিসেবে বাকি জীবন একা একা অন্ধকারে লড়াই করে গেলেন। আমরা যা জানতেও পারলাম না।

আমাদের জাতীয় সাত জন বীর শ্রেষ্ঠদের পরিবারের বর্তমান নাজুক দশার কথা আমরা জানি। তাঁদের পরিবারের কোনো খোঁজ খবর আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের নেবার সময় নেই। আমাদের সরকারগুলোর সেই সময় হয়ে ওঠে না। আমাদের চেতনা বিক্রি করা দালাল-বাটপারদের সেই সময় কোথায়? এদের পাশে দাঁড়ানোর? অথচ এরাই বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এদের নাম বেচেই বাংলাদেশের সকল সাংস্কৃতিক ঝড়-তুফান। জাতি হিসেবে কি সত্যি সত্যিই আমরা খুব বড় ধরনের বেকুব?

স্থপতি মাইনুল আজ ১০ নভেম্বর ২০১৪, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আগেরদিন ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওঁনার ডায়াবেটিস ছিল মারাত্মক অনিয়ন্ত্রিত। রক্তচাপও ছিল খুব কম। ম্যাসিভ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি মারা গেছেন। এখন সারা দেশে শোক প্রকাশের মহড়া শুরু হয়েছে। অথচ গতকালও এই বেহায়া জাতি জানতো না, এই মহান মানুষটি কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন, তাঁর হাল হকিকত কি?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নতুন সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করে। আর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতি সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর তিন ধাপে এই দীর্ঘ স্থাপত্য পরিকল্পনার কাজ ১৯৮২ সালে শেষ হয়। প্রধম ধাপে এই প্রকল্পের জন্য ৮৪ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৯৭৬ সালে এই প্রকল্পের জন্য জাতীয় ভাবে নকশা প্রতিযোগিতা আহবান করা হয়। তখন প্রথমবার মোট ৫৭ জন স্থপতি তাঁদের নকশা জমা দেন। সেখান থেকে কারো নকশাই প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত বিবেচনায় টেকেনি। দ্বিতীয় বার পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই করে ২৬ বছর বয়স্ক তরুণ স্থপতি মাইনুলের নকশা রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত হয়। নকশা চূড়ান্ত হবার তিন মাসের মধ্যে স্থপতি মাইনুল চূড়ান্ত নকশার কাজ শেষ করেন।

সাভারের ৮৪ একর জমির ঠিক মাঝখানে এই স্থাপত্য কর্মটির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন স্থপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশীদ। নকশা অনুযায়ী, স্মৃতিসৌধের বেদীমূল থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে সাতটি ত্রিকোণ কলাম। মূল স্মৃতি স্তম্ভের সর্বোচ্চ চূড়া বেদি থেকে ১৫০ ফুট উঁচু। ম্তম্ভের সাতটি ত্রিকোন কলাম বিভিন্ন উচ্চতার কংক্রিটের স্ট্রাকচার। ইংরেজি এল আকৃতির স্তম্ভটি একেক পাশ থেকে এক একেক ধরনের দৃশ্যমান। আর এটি দেখতে অনেকটা ত্রিভুজ আকৃতির। সবচেয়ে বড় স্তম্ভটির সবচেয়ে ছোট বেজ, আর সবচেয়ে ছোট স্তম্ভটির সবচেয়ে বড় বেজ। একেবারে ছোট দেয়াল দিয়ে পরবর্তী ধাপের দেয়ালগুলো বেষ্টিত। স্তম্ভের সামনে ও চারপাশে ধাপে ধাপে জলাধারের ব্যবস্থা, হ্যালিপ‌্যাড, সবুজ বেষ্টনি সহ অনেক দৃষ্টিনন্দন বিষয় যুক্ত হয়। ১৯৭৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল কলাম সাতটি কংক্রিটের ঢালাই। বাকি চত্বরের সকল নকশায় লাল ইটের ব্যবহার স্থাপনাটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করেছে। কংক্রিটের সাতটি কলাম ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বড় বড় সাতটি আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের প্রতীক। একেবারে নিচের খাঁজটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, তারপরের খাঁজটি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রতীক, পরেরটি ১৯৫৮ সালের সামরিক আইউব বিরোধী আন্দোলনের, পরেরটি ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলনের, পরেরটি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের, পরেরটি ১৯৬৯ সালের আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের এবং একেবারে উঁচু খাঁজটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতীক। সাতটি বড় আন্দোলনকে সাতটি খাঁজে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সবচেয়ে উঁচু মিনারটি ৪৫ মিটার বা ১৫০ ফুট উঁচু এবং জাতীয় শহীদ সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং মনোরম বাগান। সৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি। সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ,অভ্যর্থণা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।

১৯৮২ সালে রাষ্ট্রপতি জেনারেল এরশাদ জাতীয় স্মৃতি সৌধ উদ্ভোধন করেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, সেই অনুষ্ঠানে স্থপতি মাইনুলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রন করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় তথাকথিত ভিআইপিরা চলে যাওয়ার পর সেখানে গিয়ে জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে তখন স্মৃতি সৌধটি দেখেছিলেন স্থপতি মাইনুল। তৃতীয় ধাপে মূল স্থাপনার চারপাশে আরো ২৪.৭ একর জমির উপর জলাধার বলঅয় নির্মাণ করে স্মৃতি সৌধকে সাভারের অন্যান্য জায়গা আলাদা করা হয়। মূল স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের মোট আয়তন ৮৪ একর। আর স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪.৭ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়।

স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পর একটি গোষ্ঠি স্থপতি মাইনুলকে বেনামি চিঠি দিয়ে খুন করতে চেয়েছিল। তারপর থেকে পত্রিকায় ইচ্ছা করেই তাঁর নাম ভুল লেখা হয়েছিল। নকশার সম্মানী বাবদ তিনি ২ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁর আয়কর ধরা হয়েছিল ৫০ শতাংশ, মানে ১ লাখ টাকা। পরে তিনি রাজস্ব বোর্ডের কমিশনারকে ম্যানেজ করে ২০ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছিলেন। মানে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এমন বড় একটি কাজের জন্য স্থপতি মাইনুল মাত্র এক লাখ আশি হাজার টাকা পেয়েছেন।

স্থপতি মাইনুলকে যে গোষ্ঠী বা চক্র বেনামে চিঠি দিয়ে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন, তারাই এই মহান শিল্পীর শেষ জীবনের সমস্ত দুর্দশার জন্য দায়ী হলেও, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, আমাদের পরবর্তী সরকারগুলো সেই দায় এড়াতে পারে না। কিছুতেই পারে না।

এখন এই মহান শিল্পীর মৃত্যুর পর শোক জানানোর একটা হিড়িক পরে গেছে। এখন থেকে এই মহান শিল্পীর অর্জনকে বিক্রি করে বা মওকা হিসেবে নিয়ে আমাদের সাংস্কৃতির লাঠিয়ালরা আরো আয়-রোজগারের নানান ফন্দি ফিকির করবেন, এটাও এখনই নিশ্চিত করেই বলা যায়। কিন্তু যে মানুষটি আজ চলে গেলেন, তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৬২ বছর। ৬২ বছর কি এমন বয়স? অথচ রাষ্ট্র এই মহান শিল্পীর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি, সেটাই আজ ইতিহাস।

স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন ১৯৫২ সালের ৫ মে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার দামপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মুজিবুল হক এবং মায়ের নাম সৈয়দা রাশিদা হক। বাবার চাকরির সুবাধে তাঁর জীবনের অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে এই ফরিদপুর শহরে ৷ ফরিদপুর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৬২ সালে তিনি ভর্তি হন ফরিদপুর জেলা স্কুলে ৷ ১৯৬৭ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন ৷ ১৯৬৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্থাপত্য বিদ্যায় (নকশা) ভর্তি হন। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে স্থাপত্য বিদ্যা পাশ করেন।

১৯৭৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত স্থপতি মাইনুল ৩৮টি বড় বড় স্থাপনার নকশা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নকশাগুলো হল- জাতীয় স্মৃতিসৌধ (১৯৭৮), ঢাকা যাদুঘর (১৯৮২), ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইস্টিটিউট (১৯৭৭), বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন (১৯৭৮), চট্রগ্রাম ইপিজেড এর অফিস ভবন (১৯৮০), শিল্পকলা একাডেমীর বারো’শ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম এবং উত্তরা মডেল টাউন (আবাসিক প্রকল্প, ১৯৮৫)।

এই মহান শিল্পী ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রীয় একুশে পদক ও ২০০৭ সালে শেলটেক পদকে ভূষিত হন। তাঁর ভাইপো নাফিজ বিন জাফর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র অস্কার পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি, যিনি অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স বিভাগে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল পুরস্কার জয়লাভ করেন। স্থপতি মাইনুলের বন্ধু ও এক সময়ের সহপাঠী স্থপতি বদরুল হায়দার জানান, মাইনুল হোসেনের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলেই দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাঙালি জাতি চিরদিন এই মহান শিল্পীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র যতোই নির্বোধ হোক, আমাদের সরকারগুলো যতোই অবিবেচক হোক, আমাদের সংস্কৃতির চেতনাবাহী ইজারাদারা যতোই ধাপ্পাবাজি করুক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ এই মহান শিল্পীকে চিরদিন অন্তর দিয়ে ভালোবাসবে। পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষার মানুষ বসবাস করবে, তারা সবাই এই মহান মানুষকে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাবে। হে মহান শিল্পী, আপনাকে লাল সালাম। আমরা সারা জীবন আপনার অবদানকে মনে রাখব। সত্যি সত্যিই অন্তর দিয়ে মনে রাখব। আপনি যেখানে থাকুন, ভালো থাকুন।

১১ নভেম্বর ২০১৪
ঢাকা, বাংলাদেশ

রেজা ঘটকের ব্লগ থেকে

Comments are closed.