প্রধান শিক্ষক বটে! : বেত্রাঘাতে ক্যান্সার আক্রান্ত ছাত্রসহ ২০ শিক্ষার্থী আহত

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ক্যান্সার আক্রান্ত ছাত্রসহ ২০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিবাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সোমবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার মজিদপুর দয়হাটা কেসি ইনষ্টিটিউশনে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ের আনেক ছাত্র-ছাত্রী অনুপুস্থিত রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিতাই চন্দ্র দাস গত শনিবার স্কুল চলাকালীন সময়ে একাধিক বেত নিয়ে ষষ্ট থেকে দশম শ্রেণীর প্রত্যেকটি কক্ষে ঢুকে শ্রেণী কক্ষ অপরিষ্কারের অজুহাতে ছাত্র-ছাত্রীদের বেধরক মারধর করে।

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ক্যান্সার আক্রান্ত ছাত্র তায়েব আলীকে ঢাকার গ্রিন ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তার বাবা সাইফুল ইসলাম শিলু কান্না জড়িত কন্ঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলেকে তিন মাস পর-পর রক্ত দিতে হয়। ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তার ছেলেকে শারীরীক ভাবে আঘাত না করার জন্য তিনি সকল শিক্ষককে বারংবার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষককে এতো আকুতি-মিনুতি করার পরও তার ছেলেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিতাই চন্দ্র দাস অমানবিক ভাবে বেত্রাঘাত করেছে। আঘাতের কারণে তায়েবের সারা শরীর ফুলে গেছে। তাকে গ্রিন ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করে ৬ টি দামী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এখনো তার শারীরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন। তার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে, প্রধান শিক্ষকের অমানবিক বেত্রাঘাতে আহতরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণীর জাহেদ, সুমাইয়া, মীম, মোহাম্মদ, আসিফ, সপ্তম শ্রেণীর হামীম, তপু মন্ডল, উর্মিলা, সালমা, নবম শ্রেণীর মিতু, বাধন, তানজিলা, রাহাত, শাহরিয়ার শারীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর তাদের অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও কান্নার রোল পরে যায়।

আহত শিক্ষার্থীরা অনেককেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরোধ বাবুসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, শ্রেণী কক্ষ পরিষ্কারের জন্য বিদ্যালয়ের বেতনভূক্ত কর্মচারী রয়েছে। তবে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এভাবে পেটানোর বিষয়টি অমানবিক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিতাই চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর প্রত্যেকটি কক্ষে ঢুকে যাদের পায়ের নীচে কাগজ বা ময়লা পাওয়া গেছে তাদেরকেই পেটানো হয়েছে। তবে তায়েব আলীর ক্যান্সার আক্রান্তের বিষয়টি জানা ছিলনা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন মিয়া বলেন, শিক্ষক ও অভিবাবকদের অনেকেই আমাকে বিষয়টি জেনেছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আজিজুল হক বলেন, কোন ছাত্র-ছাত্রীকে শারীরীক ও মানসিক ভাবে আঘাতের বিষয়টি আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টাইমটাচনিউজ