লৌহজংয়ে পরকীয়ার জন্য মসজিদের মোয়াজ্জেম আব্দুল্লা খুন হন!

লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন হলদিয়া গ্রামে পরকীয় প্রেমিকার বাড়িতে রাতযাপন করতে এসে লাশ হয়ে ফিরল আব্দুল্লা (৩২) নামে কেরানীগঞ্জ শুভঢ্যা মসজিদের মোয়াজ্জেম। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দক্ষিন হলদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লার ভগ্নিপতি মোঃ সোহেল শেখের দাবি পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুএে জানাগেছে, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কামালদি গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুল্লা কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার সুভাঢ্যা পুর্বপাড়া জামিয়া চাঁন মিয়া ওহাবুল উলুম মাদ্রাসার দাওরা হাদিসের ছাএ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে দীর্ঘ দুই বছর যাবত কর্মরত রয়েছেন বলে জানান। এর পাশাপাশি সে শুভঢ্যা এলাকায় এক বাসায় প্রাইভেট পড়াতেন সেখানে পড়াতে গিয়ে পরিচয় হয় লৌহজং উপজেলার দক্ষিন হলদিয়া গ্রামের মৃত হাছেন মাদবরের মেয়ে সানজিদা আক্তার সেতুর সাথে।

সেতু এই বাড়ির চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া তার স্বামী সাইদ মালোয়শিয়া থাকেন তার সাত বছর বয়সের একটি ছেলে ও তিন বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তার রয়েছেন। প্রাইভেট পড়াতে গেলে প্রায় প্রতিদিন সেতুর সাথে দেখা হত আব্দুল্লার সেই থেকে মন দেয়া নেয়া দুজনের মধ্যে। সেতু আর আব্দুল্লার পরকীয়ার বিষয়টি আব্দূল্লার ভগ্নিপতি সোহেল জেনে ফেলে এবং এলাকার কয়েকজন মহল্লা বাসির মধ্যে জানজানি হলে সেতু বিষয়টি দামা চাপা দিতে চুনকুটিয়ার বাসা ছেরে লৌহজংয়ের দক্ষিন হলদিয়া বাবার বাড়িতে চলে আসে।

কিন্তু আব্দুল্লার সাতে তার যোগাযোগ ঠিক থাকে এর আগে সেতুর ফোন পেয়ে আব্দুল্লা বেশ কয়েকবার হলদিয়াতে সেতুর সাথে দেখা করতে আসে। এ ছাড়া যে বাড়িতে সেতু ভাড়া থাকত সে বাড়ির কজন ভাড়াটিয়া পর্যন্ত আব্দুল্লার সাথে সেতুদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। শেষে গত মঙ্গলবার রাত পোনে ১০টায় আব্দুল্লা কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়ার বাসে উঠে সেতুর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্য এবং রাত ১২টা নাগাদ মাওয়া থেকে নিজস্ব ব্যবস্থায় সেতুদের দক্ষিন হলদিয়ার বাড়িতে পৌচায় আব্দুল্লা। রাত সাড়ে ৪টায় আব্দুল্লা তার মোবাইল ফোনে মসজিদের খাদেম আবুল বাসার কে জানায় তার আসতে সকাল হবে ফজরের জামাতটা যেন সে পড়ায়।

এর পর থেকে আব্দুল্লার সাথে আর কোন যোগাযোগ করা যায়নি। যোগাযোগ না করতে পাড়ায় এবং একদিন পার হয়ে যাওয়ায় আব্দুল্লা ফিরে না আসায় তার ভগ্নিপতি সোহেল কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। তার একদিন পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে লৌহজং থানার পুলিশ এলাকাবাসির কাছ থেকে খবর পেয়ে পদ্মা নদীর দক্ষিন হলদিয়া এলাকায় আহাদ আলী মোল্লার বাড়ির সামনে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় আব্দুল্লার গলা কাটা ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্বার করে। এই বিষয়ে নিহতের ভগ্নিপতি মোঃ সোহেল শেখ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনার সন্ধানে উপজেলার দক্ষি হলদিয়া গ্রামের সানজিদা আক্তার সেতুর খোজেঁ তার বাবার বাড়িতে গেলে সেখান থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে লাশ উদ্বারের খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তার সন্তা দুটি নিয়ে অন্যএ চলে যায় বলে বাড়ির আশপাশির লোকজন জানায়। এদিকে সানজিদার বাবার বাড়ির অন্য লোকজন ও পালিয়ে যায় তার সাথে সানজিদার মা, দুই ভাই ও তাদের স্ত্রী এবং ছেলে মেয়ে কাউকে খোজে পাওয়া যায়নি।

বাংলাপোষ্ট