রায় প্রকাশের পর পরোয়ানা : রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত আদালতের

আপিল বিভাগের রায় পেলেই ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আসামি মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম। তবে সর্বোচ্চ আদালত রায়ের সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠাবে- তা আপিল বিভাগের ওপরই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার নিজের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রয়েছে, নাকি রদবদল হয়েছে- সেটা আপিল আদালতের রায় পৌঁছালে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারবে। আমি আগে বলেছি, একটা সংক্ষিপ্ত অর্ডারেই চলবে।

“এখন আপিল বিভাগ যদি মনে করেন, তারা শর্ট অর্ডার পাঠাবেন না, পূর্ণ আদেশই পাঠাবেন। তাহলে সেটা তাদের বিষয়।”

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের আপিলে গত ৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ সাজাই বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

এর এক দিন বাদে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের সাজাই বহাল রেখেছে, সেহেতু দণ্ড কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একই মত প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিপক্ষ মন্ত্রীর বক্তব্যকে এখতিয়ারবহির্ভূত আখ্যায়িত করে বলেছে, তারা রায় পর্যালোচনার আবেদন করবেন এবং এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন না।

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ায় যে কোনো সময় কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকর হয়ে যেতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়। ফলে সাংবাদিকরাও বার বা একই প্রশ্ন নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সামনে যেতে থাকেন।

মাহবুবে আলম বলেন, “যখন ট্রাইব্যুনাল আপিল বিভাগের আদেশের কপি পাবে, তাদের দণ্ড বহাল থাকলে তখনই তারা মৃত্যুপরোয়ানা জারি করবে। জেলখানায় সেটা যাবে। তখন আসামিকে জানানো হবে যে, আপনার দণ্ড বহাল রয়েছে এবং পরোয়ানা এসে গেছে।”

আরেক জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপি প্রকাশ হলেই ‘রিভিউ’ নিয়ে অস্পষ্টতা ঘুচবে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আসামিপক্ষ বলছেন, তারা রিভিউ করবেন। আমি আগেরবারও বলেছি, ৪৭(ক) ধারা মতো আমি যা বুঝেছি, রিভিউ চলবে না।”

তারপরও কাদের মোল্লার রিভিউ’র রায়ে যদি দেখা যায় যে আদালত ‘রিভিউ চলবে’ বলে মত দিয়েছে, তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেল তার আগের সিদ্ধান্ত ‘সঠিক ছিল না’ বলে ধরে নেবেন বলে জানান।

“কাদের মোল্লার মামলার রিভিউ’র রায় যদি আমরা পেয়ে যাই, তাহলেই এ সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঘুচে যায়।”

মাহবুবে আলম বলেন, “আমরা আইনজীবীরা যেভাবে বুঝি সেভাবে আইনের ব্যাখ্যা দেই। কিন্তু তখনই বিষয়টি চূড়ান্ত হয় যখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাদের মোল্লার রায় প্রকাশিত না হলে আমার ব্যাখ্যা নিয়েতো আসামিপক্ষ বসে থাকবে না। তারা নিশ্চই কোনো একটা চেষ্টা করবে। তখন এমনিতেই কাদের মোল্লার ব্যাপারে আদালতের অবস্থান বেরিয়ে আসবে।”

নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য সাত দিন সময় পাবেন আসামি কামারুজ্জামান। ‘যখন তাকে জানানো হবে’ তখন থেকে এই দিন গণনা শুরু হবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান।

কাদের মোল্লার রিভিউ’র রায় না পাওয়া গেলে কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর বন্ধ থাকবে কি না- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আপিল বিভাগ স্থগিত না করলে রায় কার্যকর বন্ধ থাকবে না।”

বিডিনিউজ