লৌহজং উপজেলায় ২০হাজার হেক্টর কৃষি জমি এখনও পানির নিচে

চলতি রবি মৌসুমে দুইটি উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে এবার রবি ফসল আবাদ ব্যাহত হওয়ার সম্বাবনা রয়েছে বলে অএ এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন। এখনো এসব এলাকার কৃষি জমির পানি সরানো যাচ্ছে না বা নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থাও নেই বলে কৃষকরা জানান। অপরিকল্পিত ভাবে ডেজিং ও নিয়ননীতি না মেনে যএতএ খাল বিল নদী নালা ভরাটকেই দায়ি করছে স্থানীয়রা।

এ দিকে রবি মৌসুম শুরু হলেও এবার সময় মত রবিশস্য বপন করা নিয়ে শংকায় কৃষক, যেমন বিক্রমপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু বপনের মৌসুম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত লৌহজং উপজেলার খিদির পাড়া ইউনিয়নের কাজির গাঁও, খলা পাড়া, খেতের পাড়া, বাসুদিয়া, পিংরোনালি, রসুলপুর, রামদি, শুভরিয়া, ফুলকুচি, মালনি, মিঠুসার, রসকাঠি, নরসিংহপুর, কলাবাগান, নয়াবাড়ি, খিদির পাড়া, বংখিরা গ্রাম এবং গাঁওদিয়া ইউনিয়নের হারিদিয়া, রানাদিয়া, আপর, বনসেমন্ত, বুড়দিয়া, গোলতলী, ঢুলুগাঁও গ্রাম, কলমা ইউনিয়নের বাসিরা, বিইল, ড়হরী, কলমা গ্রাম, বৌলতলী ইউনিয়নের পয়সা, মাইজগাঁও, নওপাড়া, শুরপাড়া, আটিগাঁও, দারারহাট গ্রাম সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় এক তৃতীয়ংশ কৃষি জমি এখনো আবাদের উপযোগি হয়নি।

খিদির পাড়া গ্রামের কুষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোসলেম শিকদার জানান, বেশির ভাগ কৃষি জমিতে এখনো জলা বদ্ব অবস্থায় রয়েছে বর্তমান সময়টা রবি ফসলের যেমন আলু, গম, সরিষা ও বিভিন্ন রকম ডালের কিন্তু জমির পানি দ্রুত সরে না যাওয়ায় জল বদ্বতার সৃষ্টি হযেছে।

অপর দিকে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও এজন বড় মাপের কৃষক মোঃ জুলহাস বেপারী জানান, লিংক খাল ও জলাশয় গুলো বালু দিয়ে প্রতি বছর ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে এই মৌসুমে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার, উত্তর চাইন পাড়া, দক্ষিন চাইন পাড়া, ভাটিংভোগ, ভবানিপুর, বাএৈশার, কড়ইতলা, সুজানগর সহ একাধিক এলাকার বর্ষার পানি এখনও জমি থেকে সরানো যায়নি। কৃষক এখন দিশেহারা, কারন রবি মৌসুম শেষ হয়ে গেলে একটি ফসলি খন্দ মার খেয়ে যাবে এই ভাবনায়।

কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিস গুলোতে বার বার ধরনা দিয়েও তাদেও জমি থেকে কোন রকম পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা করতে না পারায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এদিকে লৌহজং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলহাজ্জ মোঃ শফিকুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তর কে জানান, বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি গুলোর জমে থাকা পানি নিস্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলার ৫টি খাল সংস্কারের জন্য পরপর দুবার চিঠি দেয়া হয়েছে সংস্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে এবং বিএডিসি সেচ ভবনে। খুব শিগ্রই এর প্রতিকার হবে আশা রাখছি। খাল গুলো হচ্ছে বালিগাঁও-ঘৌড়দৌড় খাল, আটিগাঁও-মর্শদগাঁও খাল, পুরাগাং খাল, পুরাগাং সংযোগ সুবচনি নওপাড়া নাগের হাট খাল ও দক্ষিন হলদিয়া-গোয়ালী মান্দ্র-শ্রীনগর খাল।

তিনি আরো জানান, খাল খননের বিষয়টি তাদের অন্তভুক্ত নয় এটি দেখেন বিএডিসি। বর্তমানে উপজেলার ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু, ২ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে বোরো, ১হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে ডাল জাতীয়, ২শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি, ১শ’ হেক্টর জমিতে গম, এবং এক ফসলি জমির পরিমান ৩ হাজার ৮শ’ ৭৭ হেক্টর, দু ফসলি জমির পরিমান ৪ হাজার ৪শ’ ৯০ হেক্টর ও তিন ফসলি জমির পরিমান ১শ’ ৬০ হেক্টর বলে জানান।

এদিকে মৌসুমের শেষ দিকে বেশ কয়েকবার বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায়, এবং কৃষি জমির সাথে সংযুক্ত লিংক খাল গুলো বালু দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি বাধাগ্রস্থ হওয়ায় দ্রুত পানি সরতে না পারায় কৃষি কাজ অনেক ক্ষেএে ব্যহত হচ্ছে।

এছাড়াও কোন রকম পরিকল্পনা ছারাই ড্রেজিং করে বালু দিয়ে নদী নালা, খাল বীল, ডোবা, ও নিচু এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ায এ সমস্যা আরো বেশি প্রকোট আকার ধারন করেছে।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.