মুন্সীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি!

শেখ মো. রতন: কথিত মুন্সীগঞ্জ সদরসহ ৬ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। এক কথায় বলা যায় ভেঙ্গে পরেছে পুলিশ প্রশাসনের চেইন অব-কমান্ড। বেড়ে চলেছে ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই রাহাজানিসহ মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র বিকি-কিনি। প্রতিটি উপজেলার শহর-শহরতলিতে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।

এতে করে সদর-থানাসহ সর্বত্র এলাকাবাসীদের জান-মাল নিয়ে আতঙ্কে দিনযাপন করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি প্রকাশ্যে হস্থক্ষেপ থাকার কারনে প্রশাসনের এই চেইন অব-কমান্ড ভেঙ্গে পরেছে বলে থানার একাধিক বিস্বস্ত সুত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবি, দিনমজুর ও গৃহিনিরাও রয়েছে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই আতঙ্কে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা জেলা সদরসহ গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ী, শ্রীনগর, লৌহজং ও সিরাজদিখান এ ছয়টি উপজেলার শহর ও চর-এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল, ছিনতাইকারি ও মাদক বিক্রেতারা বেপোরোয়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় নেমে পরেন। ঘড়ের দরজা বন্ধ করেও যেন রেহাই নেই। গভির রাতে ডাকাত দল বাড়িতে হানা দিয়ে বাড়ির মালিকদের হাত-পা বেধে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিনই শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাকাতদের কবলে পরে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে জনসাধারনদের। কেও প্রতিবাদ করলে তাদের প্রান দেওয়ারও নজির রয়েছে। ডাকাতদের হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্বের জীবন যাপন করছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মানুষদের। কেউ পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গেলেও কোন গতি হচ্ছে না বলে ভুক্তভুগি অনেকে অভিযোগ করেছেন।

বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ডাকাতি, মাদক ব্যাবসায়ি ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের ওতপাত ও আগ্নেআস্ত্রের ঝনঝনানিতে গোটা জেলা এখন আতঙ্কপুরিতে রুপান্তরিত হয়ে পরেছে। নামকাওয়াস্তা তাদের মধ্যে দুই একজনকে গ্রেপ্তার করলেও সরকার দলীয় এমপি-নেতাদের তদবিরে এবং বড় ধরনের উৎকোচ নিয়ে থানা থেকে ছেরে দিচ্ছেন পুলিশ।

এদিকে মূল হুতারা ধরা পরলে তাদের পক্ষে বর্তমান ক্ষমতাসিন দলের মুঠোফোনে তাকে হালকা মামলা দিয়ে পুলিশ কোর্টে পাঠিয়ে দিয়ে পুলিশের চাকরি বলবত রাখতে হয় বলে জানান জেলার থানা-পুলিশের কর্মকর্তারা। ফলে ছাড়া পেয়ে ওই অপরাধিরা আবারও সেই আগ্নেআস্ত্র নিয়ে সেই ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, ভূমী-দস্যুতা দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছে। কেও জমি কিনতে গেলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। আবার জমিতে বাড়ি-ঘড় উঠাতে গেলেও নিরুপায় হয়ে চাঁদা দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আর এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন সম্প্রতি গজিয়ে উঠা উশৃঙ্খল উঠতি বয়সি ছেলেরা। আর তাদের সেল্টার দিচ্ছে সরকার দলীয় আ’লীগের রাঘব বোয়ালরা।

এদিকে, জেলার চরএলাকাগুলোতে এখন অত্যাধুনিক বোমা-অস্ত্র প্রবেশ করছে। নির্বাচন কালিন সময় থেকে শুরু করে বর্তমানেও এসব অস্ত্র-বোমা দিয়ে চলে মৃত্যু-লড়াই। পুলিশ-প্রশাসন এসব অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অভিযানে সম্পুর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্থান থেকে সু-কৌশলে বর্ডার পার হয়ে কুমিল্লা হয়ে নৌ ও স্থলপথে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বোরখা পরিহিত নারীদের দিয়ে শহর সহ চরাঞ্চলের সকল স্থানে পাচার করছে।

জেলার সদর উপজেলার আধারা, আমঘাটা, বাংলাবাজার, চিতলিয়া, চরডুমুরিয়া বাজার, চৈতারচর, টরকি, চরমুশুরা, রমজানবেগ এলাকায় প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বোমার প্রবেশ দেখে এলাকাবাসির নিদ্রা হারাম হয়ে গেছে।

অন্যদিকে গজারিয়া উপজেলায়ও বর্তমানে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় নামমাত্র অভিযান চালালেও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সম্পুর্ন ব্যর্থতার ষোলআনা প্রমান দিয়েছে। তবে এ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা।

গোপন সুত্রে জানা গেছে সদর উপজেলার কোটগাঁও, হাটলক্ষীগঞ্জ, মুক্তারপুর এলাকা, দক্ষিন ইসলামপুর, মীরকাদিম, হাতিমারা পুলিশ ফাড়ি এলাকা থেকে এসব অস্ত্র-বোমা তৈরির সরঞ্জাম জেলা শহর, থেকে সু-কৌশলে নাড়ি ও শিশুদের দিয়ে চরএলাকায় পাচার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের ফকির এ রিপোর্ট লোখা পর্যন্ত বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মোবাইল ফোনে রাইজিং বিডি’কে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আমাদের পুলিশ সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমরা আগ্নেআস্ত্রের গুলি সহ আ’লীগের শির্ষ সন্ত্রাসী শাহাজালাল মিজিকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের এই গ্রেফতার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। তবে এরিয়া তুলনায় যানবাহন ও লোকবল অপ্রতুল থাকায় সঠিক সময়ে অপরাধিদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।
মুন্সীগঞ্জ জেলার অর্ধশতাধিক এলাকায় এখন মাদক বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। এর মধ্যে ইয়াবা, ফেন্সীডিল, বিদেশি মদ, বিয়ার, হেরোইন বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অদুরে এবং এএসপি সার্কেল (সদর) এর বাসভবন এলাকা শহরের খালইষ্ট, কলেজরোড, দক্ষিণ ইসলামপুর, নয়াগাঁও, মুক্তারপুর, মুন্সীরহাটে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করছে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা।

মুলত শহরের উপকন্ঠ নয়াগাাঁও এলাকাটি এখন মাদকের হাট হিসেবে জেলা-শহরে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে। এর পরই রয়েছে সদর উপজেলার শহরের সুপার মার্কেট চত্বর, হাটলক্ষীগঞ্জ, মুন্সীরহাট, উত্তর ইসলামপুর, দক্ষিন ইসলামপুর, মানিকপুর, জগধাত্রী পাড়া, বাগমামুদালি পাড়া, দেওভোগ, খাসকান্দি, সিপাহীপাড়া, গুহেত কান্দি, মুক্তারপুর বিসিক এলাকা, মালিপাথর, রিকাবীবাজার, বিনোতপুর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

জেলার ছয় থানার পুলিশের এসআই, ওসি, এএসপি-(সার্কেল) সহ ও পুলিশ সুপারকে মাসিক মাসোয়ারা দিয়েই তারা এই অস্ত্র-বোমা, মাদক দ্রব্য বিক্রি করছে বলে পুলিশের ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের কোন সরকারি-বেসরকারি ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের তোয়াক্কা না করে অস্ত্র-মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ সর্বদা কঠোর পদক্ষেপ নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ আইন সবার জন্যই সমান। জনগনের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য আমাদের পুলিশ-প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত ছিল এবং থাকবে।

টাইমটাচনিউজ

Comments are closed.