‘কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার রায়ে পার্থক্য আছে’

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এই দুই জনের মামলার রায় এক নয়।’ মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের মোল্লার রায়ের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল থেকে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনের রায় হয়েছিল। পরে আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। কিন্তু কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছে।’

মাহবুবে আলম আরও বলেন, ‘কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংক্ষিপ্ত রায় পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।’

কত দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রায় কার্যকর সরকারের দায়িত্ব। আপিল বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গ কিংবা সংক্ষিপ্ত রায় পাওয়া সাপেক্ষে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেটা এক দিন, দুই দিন, কিংবা ৩০ দিনও হতে পারে। পুরো বিষয়টাই সরকার ও আপিল বিভাগের হাতে।’

রাষ্ট্রপতির কাছে সাতদিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কার্যকর করতে জেলকোড অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্পূর্ণ আলাদা আইনে গঠিত ও পরিচালিত। এ কারণে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড কার্যকরে স্বাভাবিক জেলকোড মানার বাধ্যবাধকতা নেই।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে তারা (আসামি পক্ষ) রিভিউ করবেন।

এই বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, আসামিপক্ষ কখন রায় পাবেন সেটা নির্ভর করে আপিল বিভাগের ওপর। কিন্তু তাদের রিভিউ আবেদনের কোনো সুযোগ নেই।’

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.