মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চা: অতীত থেকে বর্তমান

অনু ইসলাম: পদ্মা, মেঘনা, ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত একটি জেলা যার নাম মুন্সীগঞ্জ। নদীমাতৃক দেশের নদী নির্ভর এই জেলাটি মূলত একটি দ্বীপের মতো। এই জেলার চতুর্দিকেই নদী। তাছাড়া অন্যান্য ছোট ছোট শাখা নদী তো আছেই। এই নদী নির্ভর জেলায় সাহিত্য চর্চা একটু অন্যরকম মনে হতে পারে সকলের কাছে। তবুও নদী নির্ভর এই জেলার আলাদা একটি প্রধান পরিচয় বহন করে আছে এই অঞ্চলের সাহিত্য। মুন্সীগঞ্জ সাহিত্য চর্চার ইতিহাস নিয়ে পুরনো কোন ঐতিহ্য সঠিক ভাবে আছে কিনা তা জানা নেই। তবে সামান্যতম কিছু তথ্যাদি খন্ডিত ভাবে আছে হয়তো। মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চা নিয়ে কিছু তথ্যাদি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকা খুঁজে পেলাম এবং কবি জগদ্বন্ধু হালদারের কাছে তার একটি মূল্যবান লেখা আমাকে সহযোগীতা করেছে। তার জন্যে তার কাছে বিশেষ ভাবে ঋণী ।

মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চা মূলত স¦াধীনতা পূর্ব থেকেই। অর্থাৎ ১৯৭০ সাল। সেই সময় থেকেই মুন্সীগঞ্জের শহরাঞ্চলে ‘সৃজনী’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সংগঠনটি একটি লিটলম্যাগ আকারে সাহিত্য পত্রিকা বের করে যার নাম ‘রক্তস্রাত বর্ণমালা’। সম্পাদক ছিলেন শিক্ষক এ টি এম রুহুল আমিন আবু ও মজিবুর রহমান রাজা। ঠিক এই সময়েই নজরুল পাঠাগার নামের আরও একটি সংগঠন ‘অরুন আলোর অঞ্জলি’ নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশ করে। যার সম্পাদক ছিলেন কবি তমাল ঘোষাল ও মুনির কাদের (আজাদ)। মূলত এই দুটি পত্রিকার হাত ধরেই মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চার ইতিহাস শুরু হয়। এরও আগে কে বা কারা মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চার অগ্রদূত তার কোন তথ্যাদি পাওয়া যায় নি। এই সময় দারুণ ভাবে মুন্সীগঞ্জের শহরাঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য সভা হতো, সাহিত্য আড্ডা হতো কবি সাহিত্যিকদের মাঝে।

স্বাধীনতা উত্তরকালের সময়ে আরো কিছু প্রগতিশীল তরুণ ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ নামে আরো একটি লিটলম্যাগ প্রকাশ করে। তাছাড়া এই সময়েই ব্যাক্তি উদ্যোগে কবি সুশান্ত ঘোষাল সম্পাদিত ‘নির্জন’ এবং কবি তমাল ঘোষাল সম্পাদিত ‘জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপি গরিয়সী’ নামে দুটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। এই হলো মুন্সীগঞ্জ শহরাঞ্চলভিত্তিক সাহিত্য চর্চার একটি প্রানবন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তৎপর মুন্সীগঞ্জের কাছাকাছি রিকাবী বাজার এলাকায় ‘কাদামাটি’ নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। যার সম্পাদক ছিলেন বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন- কবি মো. আব্দুল আলীম, মোহাম্মদ বদুরুদ্দিন দেওয়ান ও হাসান ফকরী প্রমুখ। ১৯৭৩ সালের দিকে মুন্সীগঞ্জে ‘ঘাস ফুল নদী সাহিত্য সংষ্কৃতি গোষ্ঠী’ নামের একটি সংগঠন দেশের প্রায় ৫০ জন কবিদের নিয়ে কবি সম্মেলনের আয়োজন করে। যা অভূতপূর্ব এবং স্মরণীয়। এই সংগঠনের উদ্যোগে ‘বিস্ফোরণ’, ‘অনিকেত’ ও ‘ঘাস ফুল নদী’ নামে কয়েকটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। যার সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে- কবি আশরাফ আলম কাজল, গোলাম কাদের, সুদেব পাল, ফজল হাসান, তারিক হাসান প্রমুখ। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের দিকে এই অঞ্চলে বেশ কিছু দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে সাহিত্য চর্চার সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলোর নাম ছিলো- ‘তমোনাশ’ ও ‘জমিন’ যার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- কবি কাজী ইমদাদুল হক, জগদ্বন্ধু হালদার ও মিলনময় দাস। সেই সময়ই ‘জমিন’ ছাপার অক্ষরেও প্রকাশিত হয়। তাছাড়া ১৯৭৮ সালে রিকাবী বাজার থেকে ‘ভাস্কর’ নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। যার সম্পাদক ছিলেন- কবি আলীম আল রশীদ। এই সময়ে ‘উৎস’ নামে আরো একটি হাতে লেখা লিটলম্যাগ প্রকাশিত হতো।

১৯৭৯ সালে প্রফেসর অনিল কুমার চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ‘কালের ভেলা’ নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। আবারো সেই কবি সম্মেলন। ১৯৮০ সাল। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০ জন কবিদের নিয়ে। যা আবারো মুন্সীগঞ্জের সাহিত্যাঙ্গনকে উদ্বেলিত করে। তারপর ১৯৮৪ সালে ‘সরব’ নামে একটি সাহিত্য বিষয়ক ছোট পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যার সম্পাদক ছিলেন বিভিন্ন সময়ে যথাক্রমে- কবি জগদ্বন্ধু হালদার, মিলনময় দাস ও মিজান রহমান। এই সময়ে রিকাবী বাজার হতে ‘অংকুর’ নামে আরো একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। যার সম্পাদক ছিলেন- কবি দেলোয়ার হোসেন ও আমান সাইদ। ১৯৮৭ সালের দিকে কবি মামুনুর রশীদ এর সম্পাদনায় ‘ধ্রুপদ’ এবং কবি মিজান রহমান ও প্রদীপ কুমার দাশ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘কবিতা’ নামে দুটি লিটলম্যাগ। ১৯৮৮ সালে কবি সুদেব পাল এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘একুশের স্মরণিকা। ১৯৮৯ সালের দিকে ‘তারুণ্য’ নামে কিছু তরুণ কবির উদ্যোগে প্রকাশিত হয় ‘তারুণ্য’ নামের এই লিটলম্যাগ। যার সম্পাদনায় ছিলেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- শিপলু মন্ডল মিঠু, মুহাম্মদ কবীর-উন-নূর, আনমনা আনোয়ার প্রমুখ। ১৯৯০ সালে কবি জগদ্বন্ধু হালদার ও রায় রনজিত কুমার এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘পটভূমি’ ও ‘অর্চি’ নামের দুটি লিটলম্যাগ।

১৯৯১ সালে কবি মজিবুর রহমান এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়‘ দ্যোতনা’ নামের একটি লিটলম্যাগ। ১৯৯২ সালে কবি শাহজাহান কবীর লিটন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘প্র্রেক্ষাপট’ নামে একটি লিটলম্যাগ। ১৯৯৫ সালে কবি ক.ম.হাসান এর সম্পদনায় ‘অরণী’ নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে পঞ্চসারের জোড়পুকুর পাড় থেকে কবি যাকির সাইদ ও কাজী মহম্মদ আশরাফ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘অ’ নামের একটি লিটলম্যাগ। পরবর্তীতে লিটলম্যাগটি যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় কয়েকটি সংখ্যা। যার অন্য সম্পাদক ছিলেন চিত্রশিল্পী আবুল খায়ের। এই সময়ই কবি কাজী মহম্মদ আশরাফ ও রিয়াজুল ইসলাম রাজু র সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় আরেকটি লিটলম্যাগ ‘আপাতত’। ২০০০ সালে নয়াগাঁও হতে কবি সুমন ইসলাম ও বেলাল আহমেদ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘অভিনব’ নামে একটি লিটলম্যাগ। একই সময়ে কবি সুমন ইসলাম এর সম্পাদনায় ‘আঙিনা’ নামে আরেকটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়। ২০০১ সালে বাগমামুদালী পাড়া থেকে কবি মাসুদ আহমেদ অর্ণব এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘খড়কুটো’।

২০০২ সালে কবি সারেং রিপন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ছোট কাগজ ‘আঁচল’। ২০০৩ সালে সিরাজদিখান এর ইছাপুরা থেকে কবি সরকার মাসুদ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘পোড়াগঙ্গা’ নামে একটি লিটলম্যাগ। এই সময়ই কবি মাসুদ আহমেদ অর্ণব ও সুমন ইসলাম এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘দীপঙ্কর’ নামে আর একটি লিটলম্যাগ। ২০০৪ কবি ও ছড়াকার গোলাম আশরাফ খান উজ্জ¦লের সম্পাদনায় কেওয়ার থেকে প্রকাশিত হয় ‘সংশোধণী’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা। একই সময়ে শ্রীনগর থেকে কবি মুজিব রহমানের সম্পাদনায় ‘ঢেউ নামে আর একটি লিটল্যাগ প্রকাশিত হয়। ২০০৬ সালে কবি মাসুদ আহমেদ অর্ণব এর সম্পাদনায় ‘বিবক্ষা’ নামে আরেকটি ছোট কাগজ প্রকাশ করেন।

২০০৯ সালে গল্পকার জাহাঙ্গীর হোসেন আকাশ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘টিপসই’ নামের একটি ছোট কাগজ। ২০১২ সালে কবি সুমন ইসলাম এর সম্পাদনায় ‘পটভূমি’ নামে একটি সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এটি মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য ইতিহাসে একটি চমৎকার সংযোজন বলা যায়। যাকে জাতীয় মানের সাহিত্য পত্রিকা বলা যেতে পারে। তাছাড়া বিগত সময় ধরে স্থানীয় কিছু সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে কিঞ্চিত হলেও সাহিত্য কিছুটা জায়গা করে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাপ্তাহিক মুন্সীগঞ্জ সংবাদ, মুন্সীগঞ্জের কাগজ, বিক্রমপুর সংবাদ, জমিন, খোলা কাগজ, কাগজের খবর ইত্যাদি। অতি সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক টারমিগান পত্রিকার ‘সমান্তরাল সাহিত্য’ পাতাটি মুন্সীগঞ্জের সাহিত্য চর্চাসহ অন্যান্য জেলার সাহিত্যকেও গুরুত্বসহকারে ধারণ করছে বলে বলা যেতে পারে। যার সাহিত্য সম্পাদক অনু ইসলাম। বলা যেতে পারে মুন্সীগঞ্জের মধ্যে এটিই কোন পত্রিকার একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য পাতা।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তিগত কবিতার ভাজপত্রসহ অনেক সাহিত্য বিষয়ক ভাজপত্র বের হয়েছে একাধিক সম্পাদকদের সম্পাদনায়। এখন প্রশ্ন হলো যে, মুন্সীগঞ্জে ৭০ দশক থেকে শুরু করে ৯০ দশক পর্যন্ত এই অঞ্চলে অনেক কবি সাহিত্যিকদের হাত ধরে বিভিন্ন লিটলম্যাগ ও সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানেও এই সকল লিটলম্যাগ এর মধ্যে কিছু লিটলম্যাগ তাদের অবস্থান ধরে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে অনেক কবি সাহিত্যিকদের জন্ম বলা যেতে পারে।

কিন্তু এই লিটলম্যাগ বা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে যে সাহিত্য চর্চা হয়েছে তা কতটুকুন সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। উল্লেখ্য কয়েকজন কবি নাম করা যেতে পারে যেমন- কবি রুহুল আমিন আবু, মজিবুর রহমান, তমাল ঘোষাল, মুনির কাদের আজাদ, সুশান্ত ঘোষাল, সুদেব পাল, মোঃ আব্দুল আলীম, হাসান ফকরী, আশরাফ খান কাজল, গোলাম কাদের গোলাপ, তারিক হাসান, কাজী ইমদাদুল হক, জগদ্বন্ধু হালদার, মিলনময় দাস, আলীম আল রশীদ, অনিল কুমার চক্রবর্তী, হাওলাদার আব্দুর রাজ্জাক, জয়ন্ত সান্যাল, নাজির ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, আমান সাইদ, মামুনুর রশীদ, মিজান রহমান, প্রদীপ কুমার দাশ, রায় রনজিত কুমার প্রমুখ।

তাদের মধ্যে আজ আমাদের মাঝে অনেকেই নেই। আর যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকে সাহিত্য চর্চা ছেড়ে দিয়েছেন জীবন জীবিকার তাগিদে। বাকিরা যারা আছেন তারা কিছুটা সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা নিয়ে এখনো চর্চা করে যাচ্ছেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে তাদের সাহিত্যে চর্চার কোন সফলতা কিংবা প্রাপ্তি নেই বললেই চলে। যদিও এই দুই দশক বাংলাদেশের সাহিত্যের স্বর্ণযুগ ছিল বলা যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে কিছুই হয়ে উঠে নি এই অঞ্চলের সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে। যেনো অনেকটা শখের জন্য তাদের এই সাহিত্য চর্চা।

এবার আসা যাক ৯০ দশক পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের সময় পর্যন্ত। এই সময়ে যারা মুন্সীগঞ্জে সাহিত্য চর্চা করেছেন তাদের অবস্থানগত দিক। এদের মধ্যে অনেকে ভালোভাবে সাহিত্য চর্চাকে আকড়ে ধরে আছেন ভালোবাসার তাগিদে এটা বলা যেতে পারে নিঃসন্দেহে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। তারা হলেন- রতনতনু ঘোষ, মিজান ফরিদ, গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল, যাকির সাইদ, মো. আবুসাইদ সোহান, সুমন ইসলাম, বেলাল আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ, নিখেলেশ ঘোষ, জাহাঙ্গীর হোসেন আকাশ, মাসুদ অর্ণব, নির্তেশ সি দত্ত, আনমনা আনোয়ার, কাজী মহম্মদ আশরাফ, রিয়াজুল ইসলাম রাজু, শিপলু মন্ডল মিঠু, মুজিব রহমান, সাহাদাৎ রানা, কানন ইয়াসিন, জন মোহাম্মদ, অনু ইসলাম, জুনায়েদ প্রমুখ।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু তরুণ সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন। উপরোক্ত সকল লেখক যারা আছেন এদের মধ্যে থেকে কয়েকজন সাহিত্য চর্চা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে নিভৃতে সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন। তবে কথা হচ্ছে যারা এই অঞ্চলে থেকে সাহিত্য চর্চা করছেন তারা কতটুকুন বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখতে পারছেন বা পারবেন ? মুন্সীগঞ্জ থেকে যারা সাহিত্য চর্চা করছেন এদের বেশির ভাগই কবি। তারা বেশির ভাগই কবিতা চর্চা করছেন। সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় তাদের বিচরণ খুবই কম।

সেক্ষেত্রে বলতে হয় যে, তাহলে এদের কবিতা কতটুকুন জাতীয় সাহিত্যের পথে হাঁটছে? কিংবা যারা গল্প বা প্রবন্ধ লিখছেন তাদের লেখা জাতীয় সাহিত্যে কতটুকুন অবদান রাখছে বা রাখতে পারবে। এক্ষেত্রে হাতেগোনা দু’একজন ব্যতিত বাকিরা নিজেদের এখন অবধি জাতীয় সাহিত্যের সাথে নিজেদের পরিচয় পর্যন্ত করাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলা যেতে পারে। এখন প্রশ্ন। এই যে এতো দীর্ঘ বছরের সাহিত্য চর্চা কেন তবে এতটা সংকুচিত। এই ব্যর্থতার দায় ভার নেওয়ার ক্ষমতা হয়তো কেউ নিবে না। তবু আশার আলো সামনে নিয়ে ব্যতিক্রম ধারায় যারা লেখালেখি করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ এই ব্যর্থতার দায়ভার মুছে দেবে। মুন্সীগঞ্জে সাহিত্য চর্চার বর্তমান ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতের দিকে সুন্দর ভাবে এগিয়ে যাক জাতীয় সাহিত্যের পথে এই হোক প্রত্যাশা।

অনু ইসলাম
সহযোগী সম্পাদক
‘পটভূমি’
সাহিত্য শিল্প সংষ্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.