‘এবোলা-কুৎসায়’ জীবন অতিষ্ঠ সিরাজদিখানের প্রবাসী মহাসিনের

বিদেশ থেকে আসার পর সবাই তাঁর কাছে ভিড় করে। বাড়িতে ফিরে তিনি এলাকার ছেলেদের সঙ্গে মেতে ওঠেন ফুটবল নিয়ে। আচরণে সদালাপী। তাই সবার সঙ্গে দেশে ফেরার আনন্দ উপভোগ করছিলেন। কিন্তু তিন দিনের মাথায় হঠাৎ করেই এর ছন্দপতন ঘটল। তিনি এবোলায় আক্রান্ত- পাড়া-পড়শীর ছড়িয়ে দেওয়া এই কুৎসায় এখন সামাজিকভাবে বয়কটের শিকার। এ নিয়ে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন আইভরিকোস্ট ফেরত এই প্রবাসী।

হতভাগ্য এই প্রবাসীর নাম মহাসিন উল্লাহ (২৬)। তিনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে এবোলা আক্রান্ত নয় বলে জানালেও কেউই তাঁকে সুস্থ মনে করছে না।

জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দেশে প্রবেশ করেন মহাসিন উল্লাহ। ভোর রাত ৪টার দিকে তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সাত মাস আগে তিনি জীবিকার তাগিদে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে আইভরিকোস্ট যান। ছিলেন আইভরিকোস্টের রাজধানী আবিদজান শহরে। সেখানে কাজ না পেয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

মহাসিন উল্লাহ জানান, বাড়িতে ফেরার পরের দিন ২৩ অক্টোবর তাঁর মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়ির এক মহিলার কথা হয়। ওই মহিলা তাঁর মাকে বলেন, মহাসিন তো ভাইরাসের দেশে ছিল, ওর শরীরে আবার এসব আছে কি না। ওই মহিলা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

মহাসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইভরিকোস্ট থেকে আসার পর আমি প্রতিদিন স্থানীয় মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলেছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি। দেখা করেছি। সবাই আমার খোঁজখবর নিয়েছে। পাশে বসে জেনেছে, আমি এই সাত মাস কোথায় ছিলাম। কী করেছি। কিন্তু ওই মহিলার আচরণ আর প্রশাসনের লোকজন বাড়িতে আসার পর থেকে আমাকে দেখলেই এলাকাবাসী কেমন যেন ভয় পায়। এড়িয়ে চলে আমাকে। আমি কারো সঙ্গে কথা বলতে গেলে সে কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে অন্যদিকে চলে যায়। মাঠে বল খেলতে গেলে আমাকে কেউ খেলায় নিতে চায় না। সবাই আমাকে বাড়িতে থাকতে বলে। ওই মহিলার অপপ্রচারে এখন আমার জীবন ধ্বংসপ্রায়। একটা মানসিক যন্ত্রণা আমাকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আইভরিকোস্ট এবোলা আক্রান্ত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও এলাকাবাসী বুঝতে চাচ্ছে না আমি এ রোগে আক্রান্ত নই। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারও আইভরিকোস্ট থেকে আগতদের এবোলা আক্রান্ত তালিকার বাইরে রেখেছে।’

মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কাজী শরিফুল আলম বলেন, ‘আইভোরিতে তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্র আমরা সংগ্রহ করেছি। তাতে তাঁর এবোলা ভাইরাস আছে বলে কোথাও পাওয়া যায়নি। এবোলার মতো কিছু পেলে আমরাই তাঁকে আমাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠাতাম। তাই মহাসিনকে সামাজিকভাবে বয়কট করার কোনো কারণ নেই। তাঁর মধ্যে এবোলার ভাইরাস নেই। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলা জানান, স্থানীয় প্রশাসন মহাসিনকে সামাজিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।

কালের কন্ঠ

============================

আইভরিকোস্ট থেকে ফেরা সিরাজদিখানের যুবককে এড়িয়ে চলছে লোকজন

মুন্সীগঞ্জে ইবোলা আতঙ্ক
সামাজিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন আইভরিকোস্ট থেকে ফিরে আসা প্রবাসী, সিরাজদিখানের যুবক মহসিন উল্লাহ। ইবোলায় আক্রান্ত না হলেও পাড়া-পড়শীর ছড়িয়ে দেয়া গুজবে এখন এই প্রবাসীর কাছে কেউ আসতে চান না। ইবোলার ভয়ে তাঁকে স্থানীয়রা এড়িয়ে চলছেন। এ নিয়ে ব্যাপক মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন ওই প্রবাসী।

জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দেশে ফিরে আসেন সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে মহসিন উল্লাহ (২৬)। ভোর চারটার দিকে তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সাত মাস পূর্বে তিনি জীবিকার তাগিদে লিবিয়া হয়ে আইভরিকোস্ট যান। ছিলেন আইভরিকোস্টের রাজধানী আবিদজান শহরে। ইবোলা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির সরকার তাদের বর্ডারগুলো সিল করে দেন। সাত মাসে পূর্বে দালালের মাধ্যমে তিনি আইভরিকোস্ট যান। কিন্তু ভাষা বুঝতে না পারায় তিনি সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। পরে প্রবাসী এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরে আসেন।

মহসিন উল্লাহ জানান, দেশে ফিরে আসার এক সপ্তাহ আগে জ্বরে আক্রান্ত হন। সেখানে চিকিৎসায় তাঁর জ্বর ভাল হয়ে যায়। ২৩ অক্টোবর গ্রামের বাড়িতে তাঁর মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়ির এক মহিলার কথা হয়। ওই মহিলা তাঁর মাকে বলে মহসিন তো ভাইরাসের দেশে ছিল। ওর সঙ্গে আবার এসব আছে কিনা। এ নিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। ওই মহিলা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি তিনি চেয়ারম্যানকে জানান। চেয়ারম্যান প্রশাসনকে জানালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী মহসিনের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকছে।

জনকণ্ঠকে ফোন করে মহসিন তাঁর মানসিক যন্ত্রণার কথা জানান। তিনি জানান, আইভরিকোস্ট থেকে আসার পর আমি প্রতিদিন স্থানীয় মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলেছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি, দেখা করেছি। সবাই আমার খোঁজখবর নিয়েছে। পাশে বসে জেনেছে আমি এই সাত মাস কোথায় ছিলাম, কি করেছি? কিন্তু ওই মহিলার ওই আচরণ ও প্রশাসনের লোকজন বাড়িতে আসার পর থেকে আমাকে দেখলেই এলাকাবাসী কেমন যেন ভয় পায়, এড়িয়ে চলে আমাকে। আমি কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে অন্যদিকে চলে যায়। মাঠে বল খেলতে গেলে আমাকে কেউ খেলায় নিতে চায় না।

বরং আমাকে বাড়িতে থাকতে বলে সবাই। ওই মহিলার অপপ্রচারে এখন আমার জীবন ধ্বংসপ্রায়। একটা মানসিক যন্ত্রণা আমাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আইভরিকোস্ট ইবোলা আক্রান্ত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও এলাকাবাসী বুঝতে চাচ্ছেন না আমি এ রোগে আক্রান্ত নই। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারও আইভরিকোস্ট থেকে আগতদের ইবোলা আক্রান্ত তালিকার বাইরে রেখেছে। পাশের বাড়ির ওই মহিলার জন্য এখন আমার নাওয়া-খাওয়া হারাম হয়ে গেছে।সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল হাসান বাদলের নির্দেশে আমরা ওই লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাঁর কাগজপত্র পরীক্ষা করেছেন। তবে ইবোলার মতো কিছু পাওয়া গেছে বলে আমার জানা নেই।

জেলা সিভিল সার্জন কাজী শরিফুল আলম জানান, আইভরিকোস্টে তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্র আমরা সংগ্রহ করেছি। তাতে তাঁর ইবোলা ভাইরাস আছে বলে কোথাও পাওয়া যায়নি। তিনি সুস্থ আছেন। তাকে এড়িয়ে চলার কোন কারণ নেই। ইবোলার মতো কিছু পেলে আমরাই তাঁকে আমাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠাতাম। তাই মহসিনকে সামাজিকভাবে বয়কট করার কোন কারণ নেই। তাঁর মধ্যে ইবোলার ভাইরাস নেই। তাছাড়া এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকেও বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, মহসিনকে নিয়ে এলাকাবাসী ভুল বুঝেছে। তিনি ইবোলায় আক্রান্ত নন, আইভরিকোস্টও ইবোলা আক্রান্ত নয়। স্থানীয় প্রশাসন মহসিনের সামাজিক অবস্থান ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।

জনকন্ঠ