মাটি কাটার শ্রমিক থেকে গডফাদার শ্রীনগরের শহীদুল

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কোলাপাড়া গ্রামের মানুষ অজ্ঞান পার্টি ও প্রতারক চক্রের সদস্যদের ভয়ে আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ চক্রের মূল হোতা শহীদুল ইসলাম (৪০) এবং তার প্রধান দুই সহযোগী লাবু মিয়া (৩৫) ও দানেশের (৩৪) বাড়িও কোলাপাড়া গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামান্য মাটি কাটার শ্রমিক থেকে উত্থান হয় শহীদুলের। পরে প্রতারক ও অজ্ঞান পার্টি চক্রের গডফাদার হয়ে ওঠেন তিনি।

শহীদুলের বাবার নাম মো. নুরুল ইসলাম। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের কোলাপাড়া গ্রাম থেকেই শহীদুল নারী ও স্বর্ণ পাচারসহ সারা দেশে প্রতারক ও অজ্ঞান পার্টি চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশেই তার বাহিনী সক্রিয় আছে।

শহীদুলের নানা অপকর্মের প্রতিবাদে কোলাপাড়া গ্রামবাসী গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে কোলাপাড়া সড়কে মানববন্ধন করেন। সকল গ্রামবাসীর স্বাক্ষরে র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা। তবু বুক ফুলিয়ে এ চক্রের মূল হোতা শহীদুলসহ অপর সদস্যরা কোলাপাড়া গ্রামে বহাল তবিয়তে থেকে সাধারণ মানুষদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্রমেই আতঙ্ক ও চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আতোয়ার রহমান দুলাল বলেন, ‘বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ও বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে ঢুকে নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি খাইয়ে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে শহীদুলের নেতৃত্বাধীন এ চক্র। পুলিশ-প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানালে আমাকে উল্টো মাদক ব্যবসায়ী বলে মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে। অথচ আমি গ্রামের সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।’

কোলাপাড়া ভাইয়া একতা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. নাহিদ হাওলাদার বলেন, ‘শুনেছি কোলাপাড়া গ্রাম থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি চক্রের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।’

এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। মূল ওসি মহোদয় বলতে পারবেন। তিনি ছুটিতে আছেন।’

তবে অজ্ঞান পার্টি ও প্রতারক চক্রের মূল হোতা শহীদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

রাইজিংবিডি

Comments are closed.