ধরা পড়েনি শ্রীনগরের ধর্ষক সুমন : মারাত্মক জখম ছাত্রী

ধর্ষণের কারণে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ডিগ্রি কলেজের ছাত্রীর কুমারীত্ব নষ্ট হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার একটি বাসায় শুক্রবার ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। চিকিৎসার পর গত দুই দিনে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ধর্ষক সুমন ভাসমান অপরাধী। ঘটনাস্থলের সঠিক তথ্য দিতে পারেনি ধর্ষিতার পরিবার। ফলে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি। শ্রীনগর ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনাটির পৃথক তদন্ত করছে। ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা গতকাল পুলিশকে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। পুলিশও ওই ছাত্রীর বক্তব্য নিয়েছে।

ধর্ষিত ছাত্রী জানায়, সে শ্রীনগর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছে। ১৬ অক্টোবর কলেজ থেকে ফেরার পথে সুমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের চাকরিজীবী পরিচয় দেয়। সে ফোন নম্বর দিয়ে বলে, নম্বরটি রাখ তোমার উপকার হবে। এরপর সে নিয়মিত কথা বলত। শুক্রবার কৌশলে ঢাকায় বেড়ানোর কথা বলে ডেকে আনে। গাউসিয়া মার্কেটের কাছে একটি বাসায় নিয়ে তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে। পরে তাকে বোরকা পরিয়ে গুলিস্তানে নামিয়ে দিয়ে আসে।

ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পথে তার মাকে বিষয়টি জানায়। তার বাসায় একজন ডাক্তার নিয়ে তাকে পরীক্ষা করানোর পর ডাক্তার দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। তাকে প্রথমে শ্রীনগরে, সেখান থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

ওসিসির চিকিৎসক ডা. বিলকিস বেগম জানান, ধর্ষণজনিত কুমারীত্ব নষ্ট হওয়াসহ ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ছাত্রীর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তার যাবতীয় ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। গাইনি চিকিৎসক তাসলিমা নাসরিন জানান, ধর্ষণের কারণে ওই কিশোরীর গোপনাঙ্গ ছিঁড়ে যাওয়াসহ শরীরে মারাত্মক জখমের সৃষ্টি হয়েছে। জখমের জায়গায় সেলাই দেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর শরীরে নখের আঁচড়ও পাওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতেও ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা জানান, ৪ ছেলে এক মেয়ে তার। মেয়েটি সবার ছোট। অতি আদরের কলিজার টুকরা। সেই মেয়েটির সঙ্গে নির্মম এই ঘটনা ঘটল। তিনি চোখের পানি ছেড়ে বলেন, মনে হয় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করি।

ছাত্রীর বাবা রোববার নিউমার্কেট থানায় যান। তিনি সুমনের মোবাইল নম্বরটি পুলিশকে দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ ওই নম্বরের কললিস্টের সূত্র ধরে আসামিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

নিউমার্কেট থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে জানান, ধর্ষিত বা তার পরিবার অভিযুক্তের নাম-ঠিকানা কিংবা সঠিক ঘটনাস্থল কোনোটাই জানাতে পারেনি। আসামি সুমন একজন ভাসমান অপরাধী ও প্রতারক। সে নিজের ভুয়া নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। তাই তারা নিশ্চিত হয়ে মামলা নেবেন।

ঘটনার তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিউমার্কেট থানার এসআই আনসারুল হককে। তিনি জানান, নিউমার্কেটের সম্ভাব্য ঘটনাস্থল, শ্রীনগর থানা এলাকায় তিনি গিয়েছেন। অনুসন্ধান কর্মকর্তার দাবি, তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্লু পেয়েছেন। শিগগিরই ধর্ষক সুমনকে আটক করতে সক্ষম হবেন।

যুগান্তর

Comments are closed.