সিরাজদিখান লতব্দি ইউনিয়নে নদী দখল করে মার্কেট ও বাড়ি

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের মাদবরের হাটে ইছামতী-ধলেশ্বরী শাখানদী দখল করে প্রভাবশালী একাধিক চক্র মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে এই শাখানদী দিয়ে লঞ্চসহ বড় মালবাহী নৌযান চলাচল করত। ধীরে ধীরে তীর দখল হয়ে পড়ায় নদী সংকুচিত ও নদীর গভীরতা কমে যায়৷ বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ চলাচল। বর্ষা মৌসুমে পণ্যবাহী মাঝারি নৌযান চলাচল করতে পারলেও শুষ্ক মৌসুমে চলাচল করতে পারে না৷ বাধ্য হয়ে সড়কপথে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজদিখান বাজার থেকে উত্তরে পথ দিয়ে লতব্দি ইউনিয়নের মাদবরের হাট বাজারে চলে গেছে। সেই বাজারের তীর ঘেঁষেই চলে গেছে ইছামতী। নদীর পশ্চিম প্রান্তের অংশে মাদবরের হাট। পূর্ব প্রান্তে কৃষিজমি। সেই হাটসংলগ্ন ইছামতী দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী জব্বার মাদবর, ফুলচান, আবদুল জলিলসহ সাত-আটজন। এর পাশেই আরও তিনটি মার্কেট করছেন ইয়ার হোসেন, শান্তি রঞ্জন ঘোষ, রিপন সরকার ও মো. আলী। সব কটির পেছনের অংশ নদীর অনেক ভেতরে চলে গেছে। মাদবরের হাটের আরও পূর্বদিকে কিছু দূরেই নদী দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন মো. আমিনুল মুন্সী। এই নদীর উত্তর প্রান্ত মাদবরের হাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার গিয়ে মিশেছে ধলেশ্বরীতে। তাই এই নদীকে একসঙ্গে বলা হয় ইছামতী-ধলেশ্বরী শাখানদী৷

জানতে চাইলে জব্বার মাদবর জানান, তাঁরা সাতজন মিলে মার্কেট নির্মাণ করছেন। মার্কেটের জমি ভুল করে খাস খতিয়ানভুক্ত হয়েছিল। তবে নদীর ওপরে তাঁদের নির্মাণাধীন মার্কেটের ভবন যায়নি বলে তিনি দািব করেন। মো. আলী বলেন, ‘আমি কিছু অংশ িলজ নিয়ে মার্কেট নির্মাণ করেছি। তাঁর পাশের মার্কেটটি শান্তি রঞ্জন ঘোষ ও ইয়ার হোসেনরা করছেন।’ মো. আমিনুল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ধলেশ্বরী-ইছামতী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান সিদ্দিক জানান, নদীর যে স্থানে মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটা স্থানীয় চণ্ডীবর্তী মৌজার মধ্যে সম্পূর্ণ খাসজমি দখল করে করা হচ্ছে। এই নদীটি ২০০৬ সালে সমিতির পক্ষে খনন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার সেই নদী দখল করে মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণ করায় নদী মরে যাচ্ছে। ভূমি অফিসকে বিষয়টি জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর মহল আশরাফী জানান, ‘নদীর সম্পত্তি সরকারি৷ এই সম্পত্তি কী করে দখল হয়। আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম বলেন, নদী দখল করে মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণ করা হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.