শ্রীনগরের বিভিন্ন স্থানে হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা

শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ব্যবসা। চমকপ্রদ ব্যানার, পোস্টার ও ডিস লাইনে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন অনেক সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে কপাল চাপড়াচ্ছেন। এসব সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিচ্ছেন নিজেদের অজান্তেই। জটিল ও কঠিন রোগের শতভাগ গ্যারান্টির নামে রোগকে আরও জটিল এবং কঠিন করে তুলছে। স্বীকৃত হারবাল মেডিকেল কলেজের কোনো সার্টিফিকেট নেই এসব প্রতিষ্ঠানের হাকিম বা চিকিৎসকদের।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম এম রহমান শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অবস্থিত কলিকাতা হারবালে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান চিকিৎসকরা একজন নারী রোগীর রোগ সারানোর কথা বলে ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে লিখিতভাবে নয় হাজার টাকার চুক্তি করছেন। এসময় তিনি ব্যবস্থাপত্রটি জব্দ করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির দুই চিকিৎসককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেন। এর আগে তিনি চকবাজার এলাকার বনলতা হারবালের চিকিৎসককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলিকাতা হারবালের প্রধান চিকিৎসক মানিক মাত্র ৫ম শ্রেণী পাস। সে একসময় উপজেলার ঝুমুর সিনেমা হল সংলগ্ন আরেক ভুয়া হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বনাজী হারবালের লিফলেট বিতরণ করতেন। এক বছর আগে নিজেই কলিকাতা হারবাল নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। সার্টিফিকেট না থাকার কথা স্বীকার করলেও তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে মানিক দাবি করেন।

উপজেলা যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার আÍীয় আসমা বেগম কলিকাতা হারবালে চিকিৎসা নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। হাসাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম নামের এক যুবকের যৌন রোগ সারানোর কথা বলে তার কাছ থেকে পঞ্চান্ন হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

যুগান্তর

Comments are closed.