এভিজেএমের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জে এভিজেএম সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ওই প্রধান শিক্ষক মো: শরিফুল ইসলাম স্কুল-ফান্ডের ১১ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে খরচের কোন ভাউচার জমা না দেয়া সহ নানা অনিয়ম করেছেন তিনি। সাবেক ওই প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব ছাড়ার ৬ মাস আগে থেকে দায়িত্ব ছাড়ার দিন পর্যন্ত-(৩ এপ্রিল) ৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৫০ টাকা তুলে নেন।

এদিকে স্কুল ম্যাগাজিন ছাপানো বাবদ ৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা খরচ দেখানো হলেও ম্যাগাজিন ও ভাউচার বুঝিয়ে দেয়া হয়নি স্কুল কতৃপক্ষকে। ওই শিক্ষক মহাসয় নিজেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সকল খরচ ও হিসাব নির্বাহ করতেন। রোববার সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে আরো জানা যায়, দূর্নীতিবাজ সাবেক ওই প্রধান শিক্ষক মো: শরিফুল ইসলাম ২২ জুলাই ২০১০ থেকে ৩ এপ্রিল ২০১৪ পর্যন্ত এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারি প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের কাছে দায়িত্ব দিয়ে তিনি আত্বগোপন করেণ। পরে ৯ এপ্রিল রেবেকা সুলতানা প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলে স্কুল-ফান্ডের টাকার হিসাব অমিলসহ নানা অনিয়ম ধরা পরলে তাৎক্ষনিক স্কুলের সকল শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত সাবেক ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলের নিকট একটি অভিযোগপত্র দেন।

এ ব্যাপারে বর্তমান প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, আমি কাজে যোগদান করে দেখতে পাই সাবেক প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম কতৃর্ক হিসাবের গড়মিল, খরচের ভাউচার নেই, স্টক রেজিস্টার নেই, রেজুলেশন বই নেই। এ কারণে আমি হতবাক।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষাভবন থেকে একটি তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় স্কুলে গিয়ে তদন্ত করে গেছেন। সেখানে টাকার কোন রকম ভাউচার না থাকার ব্যাপারটি তারা লিপিবদ্ধ করে গেছেন।

তবে সাবেক প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন-বানোয়াট। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, বিষয়টি তদন্তে রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টাইমটাচনিউজ

Comments are closed.