আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির অবনতি : মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ ব্যর্থ

মুন্সীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রকাশ্যেই চলছে গুলিবর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কার্যকলাপ ও আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা এবং শক্তির মহড়া। সংঘটিত এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু অসাধু সদস্য ও বর্তমান সরকারের চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী। জেলা পুলিশ সুপারের চেইন অব কমান্ড থানার ওসি, এসআই মানছে না বলে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্তাব্যক্তি জানিয়েছে।

এদিকে, শহর, গ্রাম ও জেলাবাসী জানমাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছে। চাকরিজীবী, দলিল লিখক, এ্যাডভোকেট, সাংবাদিক ও দিনমজুরও ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের রাহুগ্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দিন দুপুরে এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কয়েকটি গ্র“প বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় নেমে পড়েছে। প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থাকায় পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সদর চরাঞ্চল এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরসহ ৬টি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্র“পের দফায়-দফায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে চলেছে পুলিশ প্রশাসনের সামনেই। এসব ঘটনায় পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। একের পর এক সিঁদেল চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্নস্থানে পুলিশ প্রশাসনের সামনেই। তাই প্রতিদিনই শহর কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাকাত, ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের কবলে পরে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে সধারণ মানুষদের। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। ভোক্তভুগীরা থানায় গিয়ে নগদ টাকা ছাড়া অভিযোগ কিংবা মামলা করতে না পারারও অভিযোগ রয়েছে অনেক। আর মামলা ২-১টি যাই হয় তাও আসামিদের ধরতে বাদীর কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। গরিব-নির্যাতিত অসহায় বাদী টাকা না দিলে তাদের মামলার ফাইল চাপা পড়ে থাকে।

অন্যদিকে প্রভাবশালীদের প্রভাবে ২-১টি মামলা রুজু হলেও আসামিদের ধরতে গেলে তাদের না ধরে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন নিয়ে ছেড়ে চলে আসে। এর ফলে আবারও সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক বিক্রি এমনকি হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বুকফুলিয়ে করতে সাহস পাচ্ছে এবং করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে অসাধু কিছু পুলিশ যোগসাজশ করে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে সখ্য করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপরাধীদের আরও অপরাধের দিকে ধাবিত করছে। যদিও বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু মাদক যেন মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীকে আলিঙ্গন করছে।

এ ছাড়াও, পত্র-পত্রিকায় নিউজ প্রকাশের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লোক দেখানো ২-১ জনকে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করলেও প্রকাশ্যে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র-বোমা উদ্ধারে পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে রাজনীতিবিদরা মনে করেন। সন্ত্রাসীরা ছাড়া পেয়ে সে আবার হত্যা, ছিনতাই, ইভটিজিং, ডাকাতি ও মাদক বিক্রিসহ নানা গর্হিত কর্মকাণ্ড দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, পুলিশে চেইন অব কমান্ড ভাঙেনি, সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেকটাই ভালো। হত্যা, ছিনতাই, ইভটিজিং, ডাকাতি ও মাদক বেচাকেনা পূর্বের চেয়ে অনেকটাই কম। কোন পুলিশ কর্মকর্তা মাদক বিক্রেতা এবং সন্ত্রাসীদের থেকে উপঢৌকন নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পেলে। তবে তদন্তপূর্বক ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিনিউজ

Comments are closed.