মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগী

মুন্সিগঞ্জে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দালালেরা রোগীদের জোর করে এখান থেকে চিকিৎসা ও বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসূতিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার সুপার মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় একটি দ্বিতল ভবনে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন মঞ্জুরুল আলম নামের এক চিকিৎসা কর্মকর্তা। চিকিৎসা কর্মকর্তার পদমর্যাদার (এমসিএইচ-এফপি) মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা বেগম প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করার সময় অচেতন করার কাজটি করেন। পরিদর্শক (ভিজিটর) পদ রয়েছে দুটি। বর্তমানে কর্মরত আছেন তিনজন। অপরজনকে প্রেষণে এখানে আনা হয়েছে। এখানে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) ও একজন ঝাড়ুদার রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ও চালক রয়েছে। এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ওই কেন্দ্রে গিয়ে আশপাশের ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের (ডায়াগনস্টিক সেন্টারের) দালালদের প্রসূতিসেবা নিতে আসা রোগীদের টানাহেঁচড়া করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর এলাকার অন্তরা বেগম (১৮) কেন্দ্রের চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে কক্ষ থেকে বাইরে আসার পরেই দালালেরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। বিষয়টি দেখে সামনে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে দালালেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় অন্তরা বলেন, ‘এরা তাদের রোগনির্ণয় কেন্দ্রে ও ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে যেতে বলছে। আমরা যেতে না চাইলেও তারা টানাহেঁচড়া করছিল।’

রোগীরা অভিযোগ করেন, এই কেন্দ্রের আশপাশে ১০-১১টি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র আছে। ওই সব বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের যোগসাজশ আছে। তাঁরা ওই সব ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে একটা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘দালালদের বিষয়টি অনেকবার পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। দালালদের দৌরাত্ম্যে আমরাও অতিষ্ঠ।’ আশপাশের ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গাজী মো. মীর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য দুজন আনসার নিযুক্ত রয়েছেন। আমরা প্রায় সব সময় কেন্দ্রটি নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করছি। তার পরও কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রথম আলো

Comments are closed.