মুন্সীগঞ্জে অস্ত্রের ঝনঝনানি : উদ্ধার অভিযান নেই

মুন্সীগঞ্জে অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। প্রকাশ্যে চলছে অস্ত্রের মহড়া। কিন্তু অস্ত্র উদ্ধারে নেই পুলিশের অভিযান। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের কোন তৎপরতা নেই। এ অবস্থায় সারা জেলা জুড়ে এখন খুন-খারাবি চলছে। শহরসহ জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরে কয়েক দফা গুলির ঘটনা ঘটে। এমনকি ডাকাত-পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। খুন হয়েছে অন্তত ৭ জন। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে লক্ষ্য করে জেলা পরিষদ ভবন ও শহরের জমিদারপাড়াস্থ স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ দু’টি ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলির খোসাও উদ্ধার করেছিল। এসব ঘটনার জন্য বিবদমান ওই ২শীর্ষ নেতা পরস্পরকে দায়ি করেছেন।

জানা গেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলির আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কাচারি এলাকার পিন্টু টেলিকমের মালিক আব্দুর রহিম পিন্টু ও তার বন্ধু তুষার আহম্মদকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ওই অপরাধীরা অস্ত্রের মহড়া চালায় বলে পিন্টু অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় পিন্টুর বড় ভাই মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে শহরের মধ্য কোর্টগাঁও এলাকার দীপু, রানা ও অপুসহ ৫ জনের নামে সদর থানায় সাধারণ ডাইরি করেছেন।

এর আগে গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের পুরাতন কাচারি এলাকায় পিন্টু টেলিকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। গুলির আঘাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটারের মনিটর ভেঙে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে মধ্য কোর্টগাঁও এলাকার দীপু, রানা ও অপুসহ ৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আজ মঙ্গলবার জামিন নিয়ে একই সন্ত্রাসীরা এ হুমকি প্রদর্শন করে।

গত ৩রা অক্টোবর রাত ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে মানিকপুর এলাকার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমর্থক যুবলীগ কর্মী অঙ্কন (৩২) প্রতিপক্ষের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মী অঙ্কনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পরদিন সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক মিথুনকে একমাত্র আসামি করে গুলিবিদ্ধ অঙ্কনের বাবা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা হয়েছে। এর আগেরদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের গণপূর্ত ভবন সড়কের কাছে এমপি সমর্থকদের ওপর হামলা ও ঈদ শুভেচ্ছার ফেস্টুন বিনষ্ট করার ওইদিন রাতেই আবু বক্কর সিদ্দিক মিথুন অঙ্কনসহ ৯ জনকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গত ১লা অক্টোবর শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নয়াগাঁও গ্রামের জাহিদ হাসান ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মকবুল হোসেনের সমর্থক দলীয় কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মো. শাহাবুদ্দিনকে (২৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সিফাত (১২) ও সাদেক হোসেন (৫০) ও অনিকসহ (১৭)-কে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরআগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় একই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও গুলি বিনিময়ে কাউন্সিলর গ্রুপের মো. বাবুল শেখ (৩৮) গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়।

২৭ শে সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫ টায় মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিঙ্কু (২২) নামে এক ডাকাতসহ শাকিল নামে এক নিরীহ শিশুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের এএসপি এমদাদ হোসেন জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতরা ২ রাউন্ড গুলি ছুড়লে বন্দুকযুদ্ধ লেগে যায়। পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ডাকাতদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র মেঘনা নদীতে ফেলে দেয় ডাকাতরা। ৭-৮ জনের ডাকাত দলের সবাই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রিংকু ও শাকিল নামে ২ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.