পরিবহন সঙ্কটে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা মাওয়ায় চরম দুর্ভোগ

আবু নাসের খান লিমন: ২৫ জেলার অন্যতম করিডোর মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাট হয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ঢাকামুখী বিপুল সংখ্যক যাত্রী। এ সময় উভয় ঘাটে হাজার-হাজার মানুষের চাপের কারণে দীর্ঘ জনজট দেখা দিলে পরিবহন সঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়েন কর্মস্থলে ফেরা এসব যাত্রী।

পরিবহন সঙ্কটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা মাওয়া রুটের বাস পরিবহনগুলোতে ৭০টাকার স্থলে ১০০টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে ঘাটে লঞ্চগুলোতে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পারপারের কারণে নৌযান সঙ্কটে মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের ফেরীতে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। এ সময় নৌযান সঙ্কটে কাওড়াকান্দি ঘাটে বিপুল সংখক যাত্রী আটকা পড়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় নিয়ে কোনরকমে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসলেও যাত্রীর চাপে মাওয়া বাস টার্মিনালে তীব্র জনজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বিআরটিসিসহ কয়েকটি পরিবহন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন দেখা দিলে গাড়ীর অপেক্ষায় শিশু-মহিলা-বৃদ্ধসহ অসংখ্য যাত্রী।

নিরুপায় এসব যাত্রীরা মাওয়ায় এসে আবার গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে বাসের ভেতড়ে, দাঁড়িয়ে ও ছাদে ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন। এ সময় পরিবহন সঙ্কটের সুযোগে মাওয়া থেকে গুলিস্তান ও মাওয়া থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সিটিং সার্ভিস কাউন্টারভিত্তিক পরিবহনগুলো ৭০টাকার স্থলে ১০০টাকা এবং লোকাল পরিবহনগুলো ছাদে এবং ভেতরে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে চলেছে। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে ও ছাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বেশকিছু লোকাল পরিবহন।
কর্মস্থলে ফেরা লঞ্চযাত্রী মাদারীপুর কালকিনী উপজেলার টলমল গ্রামের আশিক জানান ,কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে লঞ্চে মাওয়া ঘাটে আসতে ৩/৪ ঘন্টা সময় লেগে গেছে।পরে মাওয়া ঘাটে প্রায় আধাঘন্টা ধরে সিরিয়ালে থেকে কোনরকমে একটি বাস পেলেও নির্ধারিত ভাড়া ৭০টাকার স্থলে ১০০টাকা করে নিচ্ছে ।
রাজধানীর ব্যবসায়ী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগের নাসির খান জানান, মাওয়া থেকে ঢাকার নির্ধারিত ভাড়া ৭০টাকা হলেও ১০০টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও এখনো বাসে উঠতে পারিনি।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.