পদ্মা সেতু প্রকল্পে এক-চতুর্থাংশ অগ্রগতি

padma2পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে সেতু বিভাগ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও ঠিকাদারদের কাজের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সেতু বিভাগ সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রধান অংশগুলো হচ্ছে মূল সেতু নির্মাণ, নদীশাসন, জাজিরা ও মাওয়া থেকে সেতু পর্যন্ত সংযোগ সেতু নির্মাণ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রধান শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অামরা অাশা করছি মূল সেতুর কাজ খুব কম সময়ের মধ্যেই শুরু করতে পারবো। তবে এ বিষয়ে অামরা নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করতে পারছি না।‘ একটি চীনা কম্পানির কাছ থেকে এরইমধ্যে নির্মাণসামগ্রী কিনে মাওয়া পয়েন্টে রাখা হয়েছে এবং এখনও কিছু যন্ত্রপাতি চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জার্মানিতে তৈরি নদী খননের প্রধান যন্ত্রটি সমুদ্রপথে বাংলাদেশে অানা হবে।‘ অর্থনৈতিক ব্যাপারে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ২৩ শতাংশ ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে ১৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অাগামী চার বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।‘

তিন বছর দেরী হওয়ার কারণে এই সেতুর নির্মাণব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকায়।

শফিকুল ইসলাম অারও জানান, তারা এরইমধ্যে মূল সেতু এবং নদী শাসনের কাজ তত্ত্বাবধানের পরামর্শদাতা নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তারা। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্মান কাজ তদারকির জন্য কোরিয়াভিত্তিক একটি যৌথ উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। যা অাগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।

এরমধ্যে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন কমিটি ৩৩১ কোটি ১৫ লাল টাকা ব্যয়ে কন্সট্রাকসন সুপারভিসন কনসালটেন্ট (সিএসসি) এবং নদী শাসনের জন্য কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশনকে অনুমোদন দিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই চলতি অর্থ বছরে বাজেটে প্রদ্মা সেতুর প্রকল্পের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার নদী শাসন কাজের জন্য চীনা কোম্পানি সিনোহাইড্রোকে দায়িত্ব দিয়েছে।

এছাড়া গত ১৭ জুন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি নামে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা সেতুর প্রধান অংশের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ সম্পাদন করবে। এর কাজ অাগামী নভেম্বরে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০১৮ সাল নাগাদ।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ করে বিশ্ব ব্যাংক আপত্তি দোলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন তিন বছর পিছিয়ে গেছে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও দেরী হওয়ার কারণে এই সেতুর নির্মাণব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকায়। তারপরও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০১৮ সাল নাগাদ বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অাসিফ সাখাওয়াত কল্লোল
বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.