সদর থানার সহকারী দারোগার কাণ্ড!

policeবাবাকে আটক করতে গিয়ে না পেয়ে ছেলেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ৩৬ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রাতে বাবাকে বাড়ি থেকে আটক করে অভিযুক্ত ওই পুলিশ। আজ সোমবার দুপুর ২টা ও রাত সাড়ে ৯টায় শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা।

জানা গেছে, আজ দুপুর ২টার দিকে শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে মফিজউদ্দিন বেপারীর ছেলে আব্দুল মতিনকে মাদক বিক্রির অভিযোগে সদর থানার এএসআই খন্দকার নাজমুল হুদা ও কনস্টেবল মাসুদ বাড়িতে যায়। এ সময় খালি বাড়িতে মতিনের ছেলে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফুর রহমান রাব্বি (২১) ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে ওই ২পুলিশ কর্মকর্তা ডেকে হ্যান্ডকাপ পরায়। খবর পেয়ে তার মা এলিজা বেগম ঘরে ছুটে আসেন। একই সময় এএসআই নাজমুল একই এলাকার সোর্স ডিস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত খোকনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে।

এ সময় এএসআই নাজমুল এলিজা বেগমের কাছে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তার ছেলে রাব্বিকে ৫০-১০০ ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার ভয় দেখায়। পরে নিরূপায় মা পাশের গরুর খামার মালিক মো. মহসীনের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা এনে ওই এএসআইয়ের হাতে দিলে রাব্বির হ্যান্ডকাপ খুলে দিয়ে তারা চলে আসে।

এ ঘটনাটি এলাকায় ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। সন্ধ্যার পর ডিস খোকন ওই এএসআইয়ের পক্ষে এলিজা বেগমকে টাকার বিষয়টি না জানানোর জন্য মোবাইল ফোনে চাপ সৃস্টি করে। এরই মধ্যে এ ঘটনা থানার ওসিসহ স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পরে। পরে চাঁদাবাজির ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই এএসআইয়ের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একদল পুলিশ শহরের দক্ষিণ ইসলামপুরের বাড়ি থেকে আব্দুল মতিনকে আটক করে নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল খায়ের ফকির জানান, আমি শুনেছি মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়। টাকা-পয়সা লেনদেনের ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে জানান।

এ ব্যাপারে এএসআই খন্দকার নাজমুল হুদা বলেন, টাকা-পয়সা নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। রাতে আব্দুল মতিনকে ৭পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.