অবশেষে সদর থানার সহকারী দারোগা নাজমুলকে ক্লোজড!

followupঅবশেষে চাঁদাবাজির দায়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এএসআই খন্দকার নাজমুল হুদাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। সোমবার মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমে “মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সহকারী দারোগার কান্ড!”-শিরোনামে প্রচারিত সংবাদটি মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের দৃস্টিগোচর হয়। এতে তদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ওই এএসআইয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সরিয়ে দেয়া হয়।

বাবাকে আটক করতে গিয়ে না পেয়ে ছেলেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ৩৬ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রাতে বাবাকে বাড়ি থেকে আটক করে অভিযুক্ত ওই পুলিশ। সোমবার দুপুর ২টা ও রাত সাড়ে ৯টায় শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। এদিকে, বাবাকে আটক করতে গিয়ে না পেয়ে ছেলেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ৩৬ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী এলিজা বেগমসহ এলাকার কয়েকজন মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সঙ্গে দেখা করে ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ সুপার সদর থানার ওসিকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি তরিৎগতিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে মফিজউদ্দিন বেপারীর ছেলে আব্দুল মতিনকে মাদক বিক্রির অভিযোগে সদর থানার এএসআই খন্দকার নাজমুল হুদা ও কনস্টেবল মাসুদ বাড়িতে যায়। এ সময় খালি বাড়িতে মতিনের ছেলে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফুর রহমান রাব্বি (২১) ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে ওই ২পুলিশ কর্মকর্তা ডেকে হ্যান্ডকাপ পরায়। খবর পেয়ে তার মা এলিজা বেগম ঘরে ছুটে আসেন। একই সময় এএসআই নাজমুল একই এলাকার সোর্স ডিস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত খোকনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে। এ সময় এএসআই নাজমুল এলিজা বেগমের কাছে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তার ছেলে রাব্বিকে ৫০-১০০ পিস ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার ভয় দেখায়। পরে নিরূপায় মা পাশের গরুর খামার মালিক মো. মহসীনের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা এনে ওই এএসআইয়ের হাতে দিলে রাব্বির হ্যান্ডকাপ খুলে দিয়ে তারা চলে আসে। এ ঘটনাটি এলাকায় ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। সন্ধ্যার পর ডিস খোকন ওই এএসআইয়ের পক্ষে এলিজা বেগমকে টাকার বিষয়টি না জানানোর জন্য মোবাইল ফোনে চাপ সৃস্টি করে। এরই মধ্যে এ ঘটনা থানার ওসিসহ স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পরে। পরে চাঁদাবাজির ঘটনা ধামাচাপা দিতে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই এএসআইয়ের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একদল পুলিশ শহরের দক্ষিণ ইসলামপুরের বাড়ি থেকে আব্দুল মতিনকে আটক করে নিয়ে আসেন।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মতিনকে আদালতে প্রেরণ করে সদর থানার পুলিশ। দেরিতে আদালতে প্রেরণ করায় তার জামিন আবেদন করা যায়নি বলে মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাসুদ আলম জানিয়েছেন। তাকে ৭পিস ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি জানান। মতিনকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলা নেই বলে ওই আইনজীবীর দাবি।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল খায়ের ফকির জানান, মতিন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। তবে, মতিনের ছেলে রাব্বিকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ৩৬ হাজার টাকা নেয়ার বিষয় এসপি স্যার নিজেই দেখছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে এএসআই খন্দকার নাজমুল হুদা বলেন, টাকা-পয়সা নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। আব্দুল মতিনকে ৭পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুপুর ২টায় পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার তাকে পুলিশ লাইনসে সরিয়ে দিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.