সিস্টেম লস কমাতে ৪ জেলায় সুইচিং স্টেশন

electriবিদ্যুতের সিস্টেম লস কমাতে এবং সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে নির্মাণ করা হচ্ছে সুইচিং স্টেশন। মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর ও জয়পুরহাটে এগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। অনুমোদন পেলে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) মাগুরা, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর ও কুমিল্লার দক্ষিণে সুইচিং স্টেশন নির্মাণ ব্যতিরেকে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিতরণ সংস্থাসমূহকে তাদের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করতে হয়। প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি ৩৩ কেভি ফিডার লাইনের মাধ্যমে তিন থেকে চারটি উপকেন্দ্রের দ্বারা আনুমানিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ৩৩ কেভি ফিডার লাইন ওভার লোড হয়ে পড়ছে এবং উপকেন্দ্রসমূহ হতে ৩৩/১১ কেভি বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকপ্রান্তে লো-ভোল্টেজ সৃষ্টিসহ সিস্টেম লস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি যেমন এসিআর, ওসিআর, ভোল্টেজ রেগুলেটরসহ অন্যান্য সেকশনালাইজিং ডিভাইজগুলো যথাযথভাবে কাজ না করায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ গ্রাহক অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর ও জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভৌগলিক এলাকায় বিদ্যমান বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থা উন্নীতকরণ ও ক্ষমতা বড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান ও লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসে গ্রাহক সন্তুষ্টি লাভ করার পাশাপাশি সিস্টেম লস হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়ানো (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) শীর্ষক প্রকল্পে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) জন্য প্রস্তাবিত চারটি সুইচিং স্টেশন নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। এ ছাড়া পবিসের নিজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা পবিস-১, কুমিল্লা পবিস-৩ এ একটি করে সুইচিং স্টেশনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য এস এম গোলাম ফারুক বলেন, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় গৃহীত সুপারিশের আলোকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১২১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর ও জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নত গ্রাহক সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে- মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য একটি ৩৩ কেভি সুইচিং স্টেশন, চারটি ৩৩ কেভি ফিডার লাইন ও ৪০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ; জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য একটি ৩৩ কেভি সুইচিং স্টেশন, ছয়টি ৩৩ কেভি ফিডার লাইন ও ৫০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ; পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য একটি তিন কেভি সুইচিং স্টেশন, আটটি ৩৩ কেভি ফিডার লাইন ও ৬০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ; চুয়াডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য একটি ৩৩ কেভি সুইচিং স্টেশন, আটটি ৩৩ কেভি ফিডার লাইন ও ৬০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নির্ভরযোগ্য ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং ২০১৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় চারটি সুইচিং স্টেশন এবং ২১০ কিলোমিটার সোর্স লাইন নির্মাণ করা হবে। এ কারণে প্রকল্পটি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ

Comments are closed.