জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসুর প্রথম উপন্যাসের প্রকাশনা

purobi-Bosu-1তাঁরা দুজনই প্রথিতযশা গল্প লেখক। দীর্ঘদিন ধরে গল্পের জাল বুনে মুগ্ধ করে রেখেছেন পাঠককে। সম্পর্কে তাঁরা আবার দম্পতি। একজন হলেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। অপরজন হলেন পূরবী বসু। ষাট ও সত্তর দশক থেকেই পাঠকপ্রিয়তা পায় এই দুই খ্যাতিমান গল্পকারের গল্প। জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসু। অমিতশক্তি গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের পাঠকমাত্রই জানেন তার রচনার গ্রন্থনা, গল্পের কারুকাজ ভিন্ন চরিত্রের, অন্যমাত্রার। পূরবী বসুর গল্প নারী-ভাবনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনায় ঋদ্ধ। অধিকারহীন মানুষের কথকতাই সেখানে মূর্ত হয়ে উঠে। এবার এই দুজন স্বনামধন্য গল্পকার প্রথমবারের মতো লিখেছেন দুটি উপন্যাস। জ্যোতিপ্রকাশ লিখেছেন ছোট উপন্যাস ‘শূন্য নভে ভ্রমি’ এবং পূরবী বসু ‘অবিনাশী যাত্রা’। উপন্যাস দুটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বই দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজনের শুরুতেই শনিবার প্রয়াত রতœগর্ভা জননী আয়েশা ফয়েজকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। উপন্যাস দুটি নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম। আর নিজেদের লেখা প্রথম উপন্যাস নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, উপন্যাস দুটি এখনও আমার পড়া হয়নি। নাড়াচাড়া করার পর জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের উপন্যাসটিকে ভেবেছিলাম উপন্যাসিকা। কিন্তু কয়েক পাতা উল্টানোর পর মনে হলো যেমনটা ভেবেছি আসলে তা নয়। লেখক বলছেন এটা ছোট উপন্যাস। এর ফলে পড়ার আগ্রহটা আরও বেড়ে গেল। অন্যদিকে আলোচকদের বক্তব্য থেকে বুঝলাম, পূরবী বসুর উপন্যাসে অভিবাসী মানুষের জীবনের গল্প উঠে এসেছে। অভিবাসীদের জীবনের সঙ্কট উপস্থাপিত তাঁর এই লেখায়। ওই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকার চরিত্রের মাধ্যমে শুধু দুটি জীবনের কথা নয়, উঠে এসেছে প্রতিনিধিত্বশীল বিষয়। দুই লেখক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ আমার ছাত্র হলেও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। অন্যদিকে পূরবীকে যতটুকু দেখেছি মানুষ হিসেবে সে অসাধারণ।

আলোচক হায়াৎ মামুদ বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের লেখার সঙ্গে বহু পরিচিত হলেও তার এই উপন্যাস একটু অন্য স্বাদের। পাঠকমহলে আকৃষ্ট করবে তার বাক্যের গাঁথুনি দিয়ে। ‘গদ্য-পদ্য’ মিশেলে ভাষা দিয়ে কিভাবে গল্প বলা যায় একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ‘শূন্য নভে ভ্রমি’ উপন্যাসটি। কাব্যবন্দী এই রচনাশৈলী চাইলেও সবাই রপ্ত করতে পারে না। আর পূরবী বসুর লেখায় অভিবাসী জীবনের খ-িত অংশ স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে। এটাও সুখপাঠ্য হিসেবে পাঠক মহলে বিশেষ জায়গা করে নেবে।

আরেক আলোচক মুহাম্মদ নূরুল হুদা বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের উপন্যাসে ঘরে না ফেরার মানুষের কাহিনীটি ফুটে উঠেছে। আর পূরবী বসুর উপন্যাসে একাকী একজন নারীর প্রবাস জীবনের সংগ্রামের চিত্র পাওয়া যায়। সমকালীন সমাজে এই ধরনের চিত্র বিদ্যমান।

আপন অনুভূতি প্রকাশ করে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, এমন গল্প লিখব না যা অন্যের মতো হবে না, ভাষাও অন্যের মতো হবে না। এমন কিছু কি লিখতে পারি না যা কখনও লিখেনি। ছোট উপন্যাস আকারে ছোট হলে সেখানে আছে জীবনের বিস্তৃতি জীবন আছে। অন্যরকমভাবে উপস্থাপিত একটা কাহিনীও আছে। তাই বলে এটা নভেরা বা উপন্যাসিকা নয়। প্রচলিত ধারার বাইরে ছোট উপন্যাসের একটি ধারা হিসেবে চালু করার চেষ্টা করছি।

পূরবী বসু বলেন, উপন্যাসে রতন-সোমার অন্তহীন যাত্রা দুটি যাত্রা নয়, প্রতিদিন ঘটছে, অনেকে যুক্ত হচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে বাইরে যাত্রায় ব্যস্ত অনেকেই কিন্তু অভিষ্ট লক্ষ্য একটাই সেটা হলো জীবনযাত্রার মান বাড়ানো। তিনি আরও বলেন, উপন্যাসটি পড়ে যে যাই মন্তব্য করুক না কেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের বিদ্যমান। জীবনের ঘটনা অবলম্বনেই এটি রচিত হয়েছে। উপন্যাসের একটি চরিত্র এখনও বেঁচে আছেন।

জনকন্ঠ

Comments are closed.