ধলেশ্বরী ও ইছামতি : নদীর পানি যখন বিষ

dolessori-isamoni1সুজন হায়দার জনি: দূষণের থাবায় এখন মৃত্যু পথযাত্রী মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদী। সিমেন্ট, টেক্সটাইল ও ডাইং ফ্যাক্টরির বিষাক্ত বর্জ্যের ফলে দিন দিন বিপন্ন হচ্ছে ধলেশ্বরী। অপরদিকে ইট ভাটার দাপটে মরা খালে পরিণত হয়েছে এক সময়ের প্রমত্তা নদী ইছামতি। এ দু নদীর পানি এখন বিষ।

ধলেশ্বরীর প্রাচীন মিরকাদিম নৌবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাট এলাকা ও ধলেশ্বরী-মেঘনা-শীতলক্ষ্যা মোহনার চর-কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার এলাকার নদীর পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর শিল্পাঞ্চলের ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা ছোট বড় বেশ কয়েকটি টেক্সটাইল ও ডাইং মিলের বিষাক্ত বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি গিয়ে পড়ছে ধলেশ্বরীর পানিতে। তরল বিষাক্ত বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া নদীতে ফেলতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানা হচ্ছে না সে নিষেধাজ্ঞা। এতে করে অধিকাংশ টেক্সটাইল ও ডাইং মিলের বিষাক্ত বর্জ্য ধলেশ্বরীকে বিষাক্ত করে তুলছে।
dolessori-isamoni1
এছাড়া একই এলাকায় গড়ে উঠেছে বড় বড় কয়েকটি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। যার ক্লিংকার ও অ্যাশ উড়ে এসে পড়ছে ধলেশ্বরীর পানিতে। এতে করে কারখানার বর্জ্য ও অ্যাশ ধলেশ্বরী নদীকে বিপন্ন করে তুলছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর দাবি করেছে।

অধিদপ্তরের সূত্র মতে, ফ্যাক্টরিগুলোতে বর্জ্য পরিশোধিত ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকায় ওই বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এছাড়া সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ক্লিংকার ও অ্যাশ নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে শহর লাগোয়া ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী লক্ষ্মীগঞ্জ, নয়াগাঁও, মীরেশ্বরাই, মুক্তারপুর, চরমুক্তারপুরসহ আশপাশের এলাকার পরিবেশ চরমভাবে বির্পযস্ত হচ্ছে।
dolessori-isamoni2
পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাশেদুল ইসলাম জানান, শিল্প কারখানার দূষণের কারণে আশপাশের এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্রঙ্কাকাইটিস, নিমোনিয়াসহ শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগে আক্তান্ত হচ্ছে।

একই এলাকার মনীর হোসেন জানান, কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

ওই এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, “এক সময় ধলেশ্বরী নদীতে জাল ফেললে মাছের অভাব হতো না। কিন্তু এখন আর এ নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। দূষণের কারণে সব ধরনের মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।”
dolessori-isamoni3
অন্যদিকে ইছামতি নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইছামতি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিপন্ন করেছে ইটভাটাগুলো।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, “টেক্সটাইল ও ডাইং মিলগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক মাত্রায় বাযু দূষণের অপরাধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি কয়েকটি বড় সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কলকারখানায় জরিমানা ও তাদের সতর্ক করা হয়েছে।”

অধিদপ্তরের নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সহকারী পরিচালক।

পরিবর্তন

Comments are closed.