মেঘনা নদীতে ছয় পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলন

megna balu1মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ছয় পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এ ছাড়াও চাঁদাবাজি, নৌ-ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। এ পয়েন্টগুলো হলো- জেলা সদরের চরঝাপটা, চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর, গজারিয়া উপজেলার ভাটি বলাকী, কালীপুরা, সিকিরপুর ও গজারিয়া।

গজারিয়ার ভাটি বলাকী গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া জানান, অবৈধ এ বালু উত্তোলনের কারণে নদী তরীবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায়ই গ্রামবাসী বালু উত্তোলন বন্ধে বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন।

মূলত ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায়ই শত শত ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। মেঘনার সিকিরপুর বালুমহালে ইজারা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মেসার্স বাশার এন্টারপ্রাইজ, চররমজানবেগম-কালীপুরা মৌজাস্থ বালুমহালের ইজারা প্রতিষ্ঠান চাঁদনি ট্রেডার্স এবং মধ্যমচর ও চরআব্দুল্লাহ বালুমহালের ইজারা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিজয় এন্টারপ্রাইজ।
megna balu1
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল বলেন, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। ইদানীং অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ বেশি পাচ্ছি। অবৈধ বালু উত্তোলনে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন তাদের প্রতিহত করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা পুলিশের সদর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এমদাদ হোসেন বলেন, নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

ডাকাতদের ঠেকাতে শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর নৌফাঁড়ি পুলিশের দুটি টিম সার্বক্ষণিক কর্তব্য পালন করে আসছে। মুক্তারপুর থেকে চরাঞ্চলের চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর পর্যন্ত নৌপুলিশ ২৪ ঘণ্টাই টহলে থাকে।

অবৈধ বালু উতোলন প্রসঙ্গে মেসার্স বাশার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার বলেন, জেলা প্রশাসনের টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে বালুমহালের ইজারা আনা হয়েছে। প্রশাসন মহালের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা বরাবরই মহালের সীমানার ভেতর নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছি।

মেসার্স চাঁদনি এন্টারাপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী চান মিয়া বলেন, অবৈধভাবে গ্রামঘেঁষে বালু উত্তোলনের প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বালু কাটি না।

দ্য রিপোর্ট
======

ধলেশ্বরীতে ইটবোঝাই ট্রলার ডুবিতে ১৩ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকা সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে বৃহস্পতিবার ইটবোঝাই ট্রলার ডুবে অল্পতে প্রানে বেঁচে গেছেন ১৩ শ্রমিক। স্থানীয়রা ট্রলারযোগে ১৩ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে। আর কোন শ্রমিক নিখোঁজ নেই বলে দাবী পুলিশের। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নিমজ্জিত ট্রলারটি উদ্ধারে স্থানীয় ডুবুরীরা লোকাল পদ্ধতিতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।

কোষ্টগার্ডের অত্যাধুনিক ২ টি বোট ধলেশ্বরী হয়ে খুলনা যাওয়ার পথে ওই ২ টি বোটের ঢেউয়ের তোড়ে ইটবাহী ওই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে বলে দাবী করেছেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা।

মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো: মোশারফ হোসেন জানান, বেলা সাড়ে ৯ টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি ইটভাটা থেকে ১২ হাজার ইট বোঝাই করে ট্রলারটি নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ যাচ্ছিল।

এ সময় নৌ-পথে কোষ্টগার্ড সদস্যদের ২ টি নিরাপত্তা বোটের ঢেউয়ের তোড়ে ওই ট্রলার ডুবে যায়। তাৎক্ষনিক কোষ্টগার্ড সদস্যরা ও স্থানীয় অন্যান্য ট্রলার চালকরা নিমজ্জিত ট্রলারের ১৩ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে।

ল্যাফটেনেন্ট মুজাহিদ জানান, কোষ্টগার্ড সদস্যরা টাইফুন-১ ও টাইফুন-২ নামে অত্যাধুনিক ২ টি বোট নিয়ে নারায়নগঞ্জের পাগলা থেকে খুলনা যাচ্ছিল।

তিনি বলেন- কোষ্টগার্ডের বোটের ঢেউয়ের তোড়েই ট্রলার ডুবেনি। ঢাকার সদরঘাট থেকে বড় আকারের ২ টি যাত্রীবাহী লঞ্চও এ নৌপথ দিয়ে যাচ্ছিল।

বিডিলাইভ

Comments are closed.