এক-তৃতীয়াংশ লঞ্চ বন্ধ : ঈদে ভয়াবহ ভোগান্তির আশঙ্কা

mawa launchমাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে কড়াকড়ি, ভুল জরিপের অভিযোগ
পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি কঠোরতার কারণে দেশের ব্যস্ততম মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে এক-তৃতীয়াংশ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আসন্ন ঈদুল আজহায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট দিয়ে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। ঈদের আগে ‘ভুল জরিপের’ ওপর নির্ভর করে বিআইডাব্লিউটিএর এমন কড়াকড়িতে নাখোশ লঞ্চ মালিকরা।

লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, এই রুটে ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে বেশি এমন ২২টি লঞ্চের চলাচল বেআইনিভাবে বন্ধ করা হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। এই ২২টি লঞ্চ বন্ধ করার পেছনে সার্ভেয়ারের (জরিপকারী) ‘ভুল’ হতে পারে বলে স্বীকার করছেন খোদ বিআইডাব্লিউটিএর কর্মকর্তারাও।

জানা গেছে, এই নৌরুটে পিনাক-৬ লঞ্চ ছাড়া মোট ৮৬টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করত। এর মধ্যে ‘মৌসুমী অশান্ত নৌপথে’ চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বিআইডাব্লিউটিএ ২২টি লঞ্চের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। ছয়টি লঞ্চ সরকারের কঠোরতার মুখে আপনা থেকেই চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আর বাকি সাতটি লঞ্চ ডক ইয়ার্ডে পড়ে আছে। সব মিলিয়ে এখন নৌরুটটিতে চলাচলরত লঞ্চের সংখ্যা দাঁড়াল ৫০।
mawa launch
বিআইডাব্লিউটিএ সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর নড়েচড়ে বসেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। মাওয়া-কাওড়াকান্দি, মাওয়া-মাঝিকান্দি ও কাটা সার্ভিসের লঞ্চগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি রি-সার্ভে (পুনঃ জরিপ) কমিটি গঠন করে। রি-সার্ভে কমিটি গঠনের পর ১৯৭৬ সালের একটি আইনের আওতায় ৬৫ ফুটের নিচের সাতটি লঞ্চের চলাচল মালিকরা নিজ থেকেই বন্ধ করে দেন। এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর বিআইডাব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ৬৫ ফুটের ওপরে ১৩টি লঞ্চের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কারণ হিসেবে ‘মৌসুমী অশান্ত নৌপথে’র কথা বলা হয়। আর এ মৌসুমী অশান্ত নৌ পথের সংজ্ঞায় রয়েছে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর সাত মাস নৌপথে লঞ্চ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এ চিঠি পাওয়ার পর লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি সভা করে। এতে সিদ্ধান্ত হয় যখন নদী উত্তাল থাকবে বা কোনো আবহাওয়া সতর্কসংকেত থাকবে ঠিক তখনই লঞ্চগুলো চলাচল করতে পারবে না। গত ১০ সেপ্টেম্বর সমুদ্র পরিবহন অধিপ্তরের এক চিঠিতে সভার এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংশোধিত আকারে চিঠিটি লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে স্থগিতকৃত লঞ্চগুলো পুনরায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে গত বুধবার ওই ১৩টি লঞ্চসহ মোট ১৭ লঞ্চের ওপর একই কারণ দেখিয়ে চলাচলের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর আওতায় একই কারণ দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আরো পাঁচটি লঞ্চের চলাচলে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ‘মৌসুমী অশান্ত নৌপথে’ অনুপযোগিতার কারণে এই ২২টি লঞ্চ এবারের ঈদে চলাচল করতে পারবে না। সেইসঙ্গে ৬৫ ফুটের নিচের আরো সাতটি লঞ্চ নিজ উদ্যোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ডকে থাকা সাতটিসহ সর্বমোট ৩৬টি লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখন মাওয়া-কাওড়াকান্দি, মাওয়া-মাঝিকান্দি ও কাটা সার্ভিস লঞ্চ বহরে লঞ্চ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ঈদে দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে নদী পাড়ি দিতে।

এদিকে আইনে না থাকায় মধ্যম আকৃতির ৬৫ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যরে লঞ্চগুলো হঠাৎ করে ঈদের আগে বন্ধ করে দেওয়ায় লঞ্চ মালিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.