মুন্সীগঞ্জে খাল দখলের মহোৎসব!

mawa nabসংঘর্ষের আশঙ্কা
বাংলাদেশের সুয়েজ খাল হিসেবে পরিচিত তালতলা-গৌরগঞ্জ খালের একটি বিশাল অংশ ভরাট করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর বালিগাঁও বাজারের পাশে লিজের নামে খাল দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। কৃষিকাজে ব্যবহারের নামে লিজ নিয়ে ভরাট করে অবৈধ ঘর তৈরি নিয়ে এখানে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। খালের একাংশ ভরাট করে দখলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাজারটির নৌপথের মালামাল স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বালিগাঁও বাজারের পাশে তালতলা-গৌরগঞ্জ খালের তীরে বাঁধ দিয়ে ড্রেজিং করে ভরাট করা হচ্ছে খালের একটি বিশাল অংশ। সেখানে বিআইডব্লিউটিএ থেকে লিজ নিয়ে খাল ভরাটের কথা জানালেন দখলদাররা। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় এখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যে জায়গায় মাটি ভরাট করা হচ্ছে তার অনেকটা দূরে লিজকৃত জমিতে কোন প্রকার পরিবর্তন করা যাবে না এমন শর্তে খালের পারে কৃষিকাজের জন্য লিজ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ এমন কথা জানালেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

এতে বালিগাঁও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা সানাউল্লা গ্রুপ ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন চঞ্চল গ্রুপের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা রয়েছে চরম অতঙ্কে। অপরদিকে খালের পার দখল হয়ে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ দখলের সঙ্গে জড়িত সরকারদলীয় প্রভাবশালী আড়িয়ল-বালীগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন চঞ্চল, টঙ্গিবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন হালদার, আড়িয়ল-বালীগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহিন ঢালী, যুগ্ম সম্পদক মিল্টন মোল্লা ও এসএম রতন, ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান হালদার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সোহেল, বালিগাঁও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মুন্সী এবং অপর গ্রুপে রয়েছে মোঃ সানাউল্লাহ গং। তবে এসব অভিযোগ দু’পক্ষই অস্বীকার করেছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ড. সামসুদ্দোহা খন্দকার বলেন, খাল পার কিভাবে লিজ দেয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। যদি খালের পার কৃষিকাজে লিজ দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে সে জমিতে কোন প্রকার পরিবর্তন করা যাবে না। কেউ সেটা করে থাকলে ও বাঁধ দিয়ে খালের পার ভরাট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.