‘ঘুষ’ দিতে যৌতুক দাবি!

crimeপুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা
যৌতুকের মামলার এজাহার থেকে মিলল আশ্চর্য তথ্য। পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত আছেন। চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য তাঁর ৩০ লাখ টাকা দরকার। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছেন তিনি।

হাবিবুর রহমান এর আগে মুন্সিগঞ্জে পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে ছিলেন। গত এপ্রিল মাসে তাঁকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি আদেশ না মানা ও অসদাচরণের অভিযোগে এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়।

যৌতুক দাবি এবং স্ত্রীকে শারীরিক, মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার বরগুনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন স্ত্রী হালিমা আক্তার। বিচারক বজলুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার বাবা, ভাই, বোন, ভগ্নিপতিসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, চাকরিতে যোগদানের সময়ও স্ত্রী হালিমার বাবার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। সর্বশেষ মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের পদ থেকে প্রত্যাহার করার পর চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য তাঁর ৩০ লাখ টাকা দরকার বলে স্ত্রীকে জানান। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দিতে থাকেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই হালিমার বাবা শামসুল হক মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। ওই দিন শ্বশুরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন হাবিবুর রহমান। কিন্তু তিনি অপারগতা জানালে হালিমাকে বাবার সামনেই মারধর করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে ঘর থেকে বেরও করে দেন হাবিবুর।

হালিমার সঙ্গে হাবিবুরের বিয়ে হয় ২০০০ সালে। হাবিবুরের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নে। আর হালিমার বাড়ি পাশের উপজেলা আমতলীতে।

যোগাযোগ করা হলে হাবিবুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার কথা শুনেছি। যেহেতু আদালত অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন, তাই এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার, বিভাগীয় মামলা: মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের সময় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ টি এম মাহবুব-উল করিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, গালিগালাজ ও পিস্তল দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন লৌহজং থানার এএসআই মো. এমদাদ। তাঁর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কাজে বাধা, নির্বাচনী মালামালসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও মামলা নেননি পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।

এলাকার লোকজনকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি: হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজির হোসেন পাটোয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, এসপি হাবিবুর প্রভাব খাটিয়ে তাঁর দুই ছেলেসহ তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে খুনের মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ খুনের ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সিগঞ্জে। যে কারণে বরগুনা থেকে মুন্সিগঞ্জের আদালতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলেদের হাজিরা দিতে হচ্ছে।

প্রথম আলো

Comments are closed.