হুমকির মুখে মাওয়া- কাওড়াকান্দি নৌরুটের ফেরী চলাচল

mawa nabনাব্যতা সঙ্কট
বন্যাপরবর্তী গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি হ্রাসের কারণে ভয়াবহ নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের ফেরী চলাচল। এভাবে পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আযহার আগেই মাওয়া ঘাট হয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারপারে তীব্র অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দিগামী যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই রো রো ফেরী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ভোর ৪টায় লৌহজং টার্নিংয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ে। এক পর্যায়ে ফেরীটি আড়াই ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ৬টায় নিজে নিজে উদ্ধার হতে সক্ষম হয়। কেননা পদ্মায় দ্রুতগতিতে পানি হ্রাস পাওয়ায় নৌরুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে ৮/৯ফুট ও হাজরা টার্নিং পয়েন্টে ১০ফুট পানি বিরাজ করছিল। রো রো ফেরীর সর্বোচ্চ ড্রাফট ৮ফুট হলেও ফেরী চলাচলের জন্য ১০ফুট পানি প্রয়োজন বলে জানা যায়।

ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সরু চ্যানেলের এসব স্থানে ফেরী চলছে ওয়ান ওয়ে। অন্যদিকে পদ্মায় পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলে ড্রেজিং করেও এ রুটে নির্বিঘ্নে ফেরী চলাচল নিয়ে রয়েছে সংশয়।

এরই মধ্যে নৌরুটে স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার-১৩৬, ১৩৯, ২০১৪-০২ ও ডেল্টা -১ সহ ৪টি ড্রেজার এবং বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেড থেকে ভাড়ায় আনা ৩টি বেসরকারী ড্রেজার- মধুমতি, আইসল্যান্ডার ও পদ্মাসহ মোট ৭টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মায় পলি অপসারণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া আগামী শুস্ক মৌসুমের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত লৌহজং টার্নিং থেকে কাঁঠালবাড়ী পয়েন্ট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার নৌরুটে পলি অপসারণ কাজ চলবে বলে জানা গেছে।

পদ্মায় পানি হ্রাস পেলে পরবর্তীতে আরো একবার নৌরুটে সার্ভে হাইড্রোগ্রাফী চালাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভরা বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতে মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটে ধেয়ে আসতে থাকে অসংখ্য পলি।

স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে পলি জমে জমে নৌ চ্যানেলের একাধিক স্থানে ক্রমেই প্রসারিত হয়েছে ডুবোচর।সে সময় নৌরুটে নৌচ্যানেলের মুখেই বিস্তীর্ণ একাধিক ডুবোচরের অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায়। এর ফলে মাওয়া চরজানাজাত নৌরুটের মাওয়া থেকে ১নটিক্যাল মাইল অদূরে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখে ৪০০ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট এ ডুবোচরটি এ স্থানে ক্রমেই মূল চ্যানেলের দিকে প্রসারিত হচ্ছে। বুধবার এ স্থানে মাত্র ৮/৯ফুট পানির গভীরতা বিরাজ করছিল।

এদিকে গত কয়েকদিনে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি হ্রাস পাওয়ায় টার্নিংয়ের মুখে সরু এ পয়েন্টে ফেরী চলছে খুবই ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দিগামী ফেরীগুলো লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট পাড়ি না দেওয়া পর্যন্ত মাওয়াগামী ফেরীগুলো এ পয়েন্টে ছোট নদীতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিটি ফেরী মাষ্টারদের লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে ফেরী কর্তৃপক্ষ। একইসাথে হাজরা টার্নিং পয়েন্টে আরো একটি ডুবোচর দেখা দিয়েছে। পলি জমে জমে এখানেও বুধবার ১০ফুট পানির গভীরতা বিরাজ করছিল। ফলে উভয় পয়েন্টে ডাবল ওয়ে ফেরী চলাচল বন্ধ রেখে ফেরী চলছে ওয়ান ওয়ে।এছাড়াও নৌরুটের মধ্যনদীতে আরো বিস্তীর্ণ একটি ডুবোচরের অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেছে।এ ডুবোচরটি ২৫০০ ফুট এলাকা নিয়ে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে।

রো রো ফেরী শাহ আলীর সেকেন্ড মাষ্টার মো: সাজ্জাত হোসেন,টাগ আইটি ৩৯২ এর মাষ্টার শাহ আলম জানান, বর্তমানে নৌরুটের লৌহজং ও হাজরা টার্নিংয়ে রো রো ফেরী এবং ফ্লাট ফেরী চলাচলে খুবই ঝুুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। উভয় চ্যানেলের মুখে পানি কম থাকায় নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এ দুই পয়েন্টেই ওয়ান ওয়ে ফেরী চলাচল করছে। কোন ফেরী ওভারটেকিং করছে না বলে তারা আরো জানান।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো:শাজাহান জানান, পদ্মায় পানি হ্রাস পাওয়ায় লৌহজং ও হাজরা টার্নিংয়ে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে লৌহজং টার্নিংয়ে ৮/৯ফুট এবং হাজরা টার্নিংয়ে ১০ফুট পানি পাওয়া যাচ্ছে। তবে পূর্ণিমার জোয়ারের পরে ফেরী চলাচল আরো হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া নৌরুটের মধ্যনদীতে আরো বিস্তীর্ণ একটি ডুবোচরের অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর উপ সহকারী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) ইকবাল হোসেন জানান, নৌরুটের লৌহজং টার্নিংয়ে, হাজরা, কাঁঠালবাড়ী এবং মধ্যনদীতে ডুবোচরের অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেছে। তবে লৌহজং টার্নিংয়ে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার-১৩৬, ১৩৯, ডেল্টা -১ এবং বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেডের ড্রেজার মধুমতি, আইসল্যান্ডারসহ ৫টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মায় পলি অপসারণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

হাজরা টার্নিংয়ে বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেডের ড্রেজার ”পদ্মা” এবং কাঁঠালবাড়ী পয়েন্টে বিআইডব্লিউটিএর ”ড্রেজার-২০১৪-০২” দিয়ে পদ্মায় পলি অপসারণ কাজ শুরু করা হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

জে নিউজ

Comments are closed.