শ্রীনগরে প্রসাশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভড়াট হচ্ছে বেইলী ব্রিজের মুখ

srinagarBB2শতাধিক একর ফসলী জমিতে স্থায়ী জলাবন্ধতার শঙ্কা
আরিফ হোসেন: শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের একশ গজের মধ্যে পানির প্রবাহ থামিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে ভড়াট করা হচ্ছে সরকারী জায়গা সহ বেইলী ব্রিজের মুখ। উপজেলা প্রসাশন নিষেধ করলেও তা আমলে নিচ্ছেনা এলাকার চিনহিত ভূমি সিন্ডিকেট চক্রটি। এতে শতাধিক একর ফসলী জমিতে স্থায়ী জলাবন্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিন দিন বালু ভড়াট করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত রবিবার দুজন শ্রমিককে আটক করে সারাদিন থানা হাজতে আটকে রাখে। পরে ঐদিন রাত আটটার দিকে পানি প্রবাহের জন্য নালা তৈরি করে দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে চক্রটি শ্রমিকদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। কিন্তু সিন্ডিকেটটি পরদিন নালা তৈরি না করে উল্টো সরকারী জায়গা সহ নতুন করে ভড়াট শুরু করে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, ঢাকার চক নামে পরিচিত দেউলভোগ, হরপাড়া, ভূইছিদ্র ও ষোলঘর এলাকার প্রায় শতাধিক একর জমিতে প্রতি বছর প্রায় সাত হাজার মণ বোর ধান উৎপাদিত হয়। শ্রীনগর-ষোলঘর রাস্তার দেউলভোগ এলাকায় প্রায় চল্লিশ ফুট দীর্ঘ বেইলী ব্রিজের মুখটি ভড়াট হয়ে যাওয়ায় এসকল ধানি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। ফলে ঐ এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পরবে।
srinagarBB1
ষোলঘর গ্রামের কৃষক আ: কাদের জানান, এই জমিগুলোর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ঐ ব্রিজটির মুখ। এটা বন্ধ করে ফেলায় সহজে বর্ষার পানি নামতে পারবেনা। এতে জমিতে কৃষকরা সময়মত ধান রোপন করতে না পারলে ফসল হবেনা। হরপাড়া গ্রামের আ: রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন উপজেলা অফিসের এতো কাছে ব্রিজ ভড়াট করা হচ্ছে অথচ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। এভাবে হতে থাকলে এলাকায় আর কোন ফসল হবেনা।
srinagarBB2
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, ব্রিজের মুখ ভড়াট করে পানি প্রবাহ ব্যহত করায় জমিগুলোতে আর ধান হবেনা। একটি পরিবেশ বাদী সংগঠনের উপজেলা সমন্বয়কারী আওলাদ হোসেন জানান পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য এলাকার কৃষকদের নিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে।

শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাষ বলেন, কোন ভাবেই পানি প্রবাহ বন্ধ করা যাবেনা। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানারা বেগম বলেন, পানি নিষ্কাশনের নালা তৈরি করে দেওয়ার শর্তে আটককৃত শ্রমিকদেরকে জমির মালিক ছাড়িয়ে নেন। জমির মালিক বালু সরিয়ে না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.