পিনাক ডুবি: জরিপকারক সাইফুর বরখাস্ত

pinaksusপিনাক-৬ লঞ্চডুবির ঘটনায় দায়ী প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মির্জা সাইফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছেন।

গত ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীর মাওয়া ঘাটের কাছে এমএল ‘পিনাক-৬’ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে এক মাস ১০ দিন পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬-এর ৪৫(৩) ধারায় গঠিত সরকারের এই তদন্ত কমিটি লঞ্চ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, নকশায় ত্রুটি এবং লঞ্চটির কাগজপত্রেও নানা রকম অনিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ছয় কর্মকর্তার অনিয়ম ও অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা রোধে নৌ-প্রশাসন পুনর্গঠন, নৌ নিরাপত্তা, আইন সংশোধন ও জরিপ পদ্ধতি পরিবর্তনসহ ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নৌসচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান এবং বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক ও নৌ-নিরাপত্তা ট্রাফিক শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। এছাড়া সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তা এবং ডুবে যাওয়া নৌযানটির মালিক ও চালকের নামে ফৌজদারি মামলা করার আদেশ দেন।
pinaksus
এ প্রেক্ষিতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর মির্জা সাইফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এর আগে গত মে মাসে মুন্সিগঞ্জে এম ভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে ৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক এ এফ এম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২৪ জুন দাখিল করা প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য মির্জা সাইফুর রহমানকে দায়ী করে। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ৪ আগস্ট মাদারিপুরের কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পিনাক-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ পদ্মায় ডুবে যায়। লঞ্চটিতে দুই শতাধিক যাত্রী ছিল। শতাধিক যাত্রী সাঁতরে তীরে আসতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকারি হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬১ যাত্রী। পরদিন ৫ আগস্ট রাতে ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনার দিন মেরিন কোর্টে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর প্রথম মামলা করে।

দুর্ঘটনার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুর-উর-রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম দফায় ১৮ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল।

ঢাকাটাইমস

Comments are closed.