মাওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাকজট ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা

mawatrafমাওয়ায় টানা একমাস ধরে চলছে সঙ্কট। এতে কাঁচামালসহ অনেক আমদানি রফতানির পণ্য সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাসহ গোটা দেশে। মাওয়া বিআইডব্লিউটিসি ম্যানেজার সিরাজুল হক জানান, প্রতিদিন মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে গড়ে ১৬শ’ যানবাহন পারাপার হয়। কিন্তু গত ১৯ আগস্ট নদী ভাঙ্গন শুরুর পর থেকেই নানা সমস্যা। এ পর্যন্ত তিন দফা ভাঙ্গন হয়েছে। দুইবার রো রো ফেরিঘাট সরিয়ে নিতে হয়েছে। এছাড়া তীব্র স্রোত, এখন আবার নাব্য সঙ্কট। এ সব সমস্যার কারণে পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। সঙ্কটের কারণে গড়ে ৫-৭শ’ যান পারাপার হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে যাত্রী অগ্রাধিকার দিয়ে বাস ও প্রাইভেটকার আগে পার করা হয়। তাই ট্রাকগুলোকে একটু বেশি অপেক্ষায় থাকতে হয়।

এই ফেরি রুড দিয়ে নানা রকম সবজি, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গরু-ছাগল, প্রচুর মুরগি ঢাকার দিকে আসে। এছাড়া মংলা পোর্ট দিয়ে আমাদানি করা হয় নানা রকমের যন্ত্রাংশ, স্টিলের বার, লোহালক্কর, প্রাইভেটকার ও মাইক্রো আসে এই পথ দিয়েই। সাতক্ষীরা বর্ডার দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজও আসে। কিন্তু এ সব পণ্যবাহী ট্রাক পার হতে বিলম্ব হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে মনোহরি মালামাল, চিনি, নানারকম মসলা, খবার তেল, রড, সিমেন্ট যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। এ সব ট্রাকও থাকছে দীর্ঘ অপেক্ষায়। মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফিরোজ মিয়া জানান, মাওয়া পণ্যবাহী ট্রাকজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রবেশদ্বারে এই সঙ্কটে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থায় নানা রকম প্রভাব পড়েছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। ট্রাকগুলো দিনের পর দিন বসে থাকায় ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক হাসান বাদল সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, নানা কারণেই মাওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এখনাকার এ সব সঙ্কটের সঙ্গে জাতীয় অনেক সমস্যা তৈরি হয়। আমদানি-রফতানি ছাড়াও এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েও আমরা সরকারকে অবগত করেছি।

জনকন্ঠ

Comments are closed.