জ্যোতিপ্রকাশ ও পূরবী বসুকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান

purobi-Bosu-1কথাসাহিত্যিক পূরবী বসু’র হাতে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০১৩ হস্তান্তর করা হয়েছে। একাডেমির সভাকক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে তার হাতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালে ছোটগল্পে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পুরস্কার ও সনদের প্রতিলিপি প্রদান করা হয়।

পূরবী বসুকে পুষ্পস্তবক, সনদ, ক্রেস্ট ও পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকার চেক এবং জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-সনদ ১৯৭১’-এর প্রতিলিপি প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক-গবেষক ড. হায়াৎ মামুদ, রাজনীতিবিদ নূহ-উল-আলম লেনিন, প্রকাশক আলমগীর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসু উভয়ই তাদের সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে আমাদের সাহিত্যভুবনকে ঋদ্ধ করে চলেছেন। অনিবার্য কারণে যথাসময়ে পুরস্কার প্রদান না করা গেলেও আজ একসঙ্গে তাদের হাতে বাংলা একাডেমি পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
purobi-Bosu-1
প্রতিক্রিয়ায় জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, ‘১৯৭১ সালে জহির রায়হান, আনোয়ার পাশা, হাসান হাফিজুর রহমান, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের বছরে তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে পুরস্কারের সনদ গ্রহণ করতে পারিনি। আজ সুদীর্ঘ তেতাল্লিশ বছর পর বাংলা একাডেমি আমাকে এ পুরস্কার-সনদের প্রতিলিপি প্রদান করে সম্মানিত করেছেন।

কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০১৩ প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া জ্ঞাপন করে পূরবী বসু বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। একসময় খেয়ালবশত সাহিত্যচর্চা শুরু করলেও এখন তাই হয়ে ওঠেছে জীবনের প্রধান নেশা। অধিকারহীন মানুষই আমার কথাসাহিত্যের মৌল বিষয়। বাংলা একাডেমি পুরস্কার এ বিষয়ে আমাকে আরও দায়বদ্ধ করে তুলেছে। ’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসুর হাতে যথাসময়ে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেওয়া না গেলেও এর গুরুত্ব লাঘব হয়নি। তারা দু’জনেই আমাদের কথাসাহিত্যের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তাদের সৃজনযাত্রাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমরা মনে করি।

প্রসঙ্গত, গত ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৪ অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০১৩’ প্রদান করেন। সে সময় প্রবাসে অবস্থানের কারণে পুরস্কারপ্রাপ্ত পূরবী বসু উপস্থিত থাকতে পারেননি।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.