জাপানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

japan bnpরাহমান মনি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে জাপানে। দলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে জাপান শাখা বিএনপি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল অঙ্গসংগঠনগুলো (যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জিয়া পরিষদ)।

১ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস হওয়ায় ৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাজধানী টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া হলের সভাকক্ষে সন্ধ্যাকালীন আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন। এ সময় মঞ্চে আরও উপবিষ্ট ছিলেন উপদেষ্টা কাজী এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা। সভা পরিচালনা করেন সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কাউসার খান, সাফি রায়হান, কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলু, হায়দার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, জুয়েল পাঠান, আবুল খায়ের, তৌহিদুল ইসলাম রিপন, মোল্লা দেলোয়ার হোসেন, মোজাহেদুর রহমান জুয়েল, নুর খান রনি, ফয়সাল সালাউদ্দিন, নজরুল ইসলাম রনি, এটিএম জামাল হোসেন, মো. জসীম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, এমদাদ হোসেন মনি, কাজী এনামুল হক, মীর রেজাউল করিম রেজা, মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ। মোফাজ্জল হোসেন ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া দেশের ভার বুঝে নেন। ১৯৭১ সালেও একইভাবে তিনি একটি ঘোষণা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার ঘোষণা পেয়ে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাক হানাদার বাহিনীকে পিছু হটিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর আজ দেশ চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে খুব বেশি মনে পড়ছে। প্রয়োজনীয়তা অভাববোধ করছি।
japan bnp
বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হয়। গুম, খুন ও সন্ত্রাস ছাড়া আওয়ামী লীগ আর কিছুই দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নির্যাতন যত বাড়বে, বিএনপির জনপ্রিয়তা ততই বৃদ্ধি পাবে। ’৭২ নিয়ে যত ঘাঁটাঘাঁটি করবে ততই সত্য বেরিয়ে আসবে। ইতোমধ্যে আসতে শুরু করে দিয়েছে। আগে সত্যটা জানাত আওয়ামী ঘরের বাইরের লোকজন। আর এখন জানাচ্ছেন নিজ ঘরানার লোকজনেরা। বঙ্গতাজের কন্যা সিমি হোসেন বোম ফাটানোর পর বড় বোম ফাটিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের উপসেনাপতি, আওয়ামী এমপি, মন্ত্রী এ কে খন্দকার। বিবেকের তাড়নায় প্রকৃত সত্য ঘটনা জানাচ্ছেন তারা। আর এতেই গা জ্বালা শুরু হয়ে গেছে। গায়ের জোরে অনেক কিছুই করা যায়, তবে তা স্থায়ী হয় স্বল্প সময়ের জন্য, দীর্ঘকালীন নয়। প্রকৃত সত্য একদিন বেরিয়ে আসবেই।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আজ এতিম হয়ে গেছে। বাপ-মা হারালে সন্তান যেমনটি এতিম হয়ে যায়, তেমনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এতিম হয়ে গেছে। কারণ গণতান্ত্রিক পন্থায় জনগণই হচ্ছে ক্ষমতার উৎস। এই জন্যই তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরতে চাচ্ছে। একের পর এক অগণতান্ত্রিক পন্থা বেছে নিচ্ছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে যোজন যোজন মাইল সরে গেছে, এতিম হয়ে গেছে।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালে যেমন চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়ে মুক্তমত প্রকাশের গলা টিপে ধরতে চেয়েছিল, তেমনি আজ ৪০ বছর পর নীতিমালা নামে মিডিয়ার কণ্ঠ রোধ করতে চাচ্ছে। ’৭২ এর সংবিধানের নামে বিচারপতিদের বিবেকের ওপর হস্তক্ষেপের জন্য অভিশংসন বিল এনেছে। বিচারপতিরা যেন ভয়ে তটস্থ হয়ে এমন কোনো রায় না দেন যাতে আওয়ামী স্বার্থে লাগে। তাই তাদের ভয় দেখিয়ে সঠিক বিচারকার্য থেকে বিরত রাখার জন্য…।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.