গজারিয়ায় কোরবানীর পশুর হাট একটি চক্রের হাতে জিম্মি

cowsইজারা বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ না করায় ক্ষোভ
গজারিয়া উপজেলার কোরবানীর পশুর হাট ইজারা বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ না হওয়ায় এবং একটি চক্রের হাতে জিম্মি থাকায় বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমাঝোতা করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির জন্যই দীর্ঘ বছর ধরে এই কাজটি করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গোটা উপজেলার অস্থায়ী তিনটি হাটের ইজারা মূল্য মাত্র ২ লাখ টাকা!

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ভাটেরচর, রসুলপুর ও গজারিয়া পাইলট হাই স্কুল এই তিনটি হাট ইজারার প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিডিউল কেনার শেষ সময়। ২২ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি ওপেন করা হবে। এরপর সর্বোচ্চ দর দাতাকে হাট ইজারা দেয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই হাটগুলো কে নিবে তা নিশ্চিত হয়েগেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের সহোদর জিতু খান বরাবরের মতই এসব হাট-বাজারের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনিই নির্বাচন করছেন কে পাবে কোন হাট। আগের বছরের সেই নামে মাত্র মূল্যের চেয়ে সামন্য বৃদ্ধি হিসাবে ইজরা মূল্য নির্ধরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সরকারি খাতের যে অর্থ জমা হবে তার চেয়ে ৮/১০ গুন বেশী দরে হাট ইজারা হবে। সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগভাটোরা হবে।

তাই সোমবার পর্যন্ত রসুলপুর ও গজারিয়া পাইলট হাই স্কুল হাটের কোন সিডিউল বিক্রি হয়নি। তবে ভাটেরচর হাটের জন্য ৩০টি সিডিউল বিক্রি হয়েছে। ভিন্ন কারণে ভাটেরচর হাট ওপেন করলেও তা আবার জিম্মি দশায় ফিরে যাচ্ছে। যারা সিডিউল কিনেছেন তাদের সকলের সিডিউল জিতু খানে কাছে জমা দিয়েই সমঝোতা দর করা হবে। বাড়ি টাকা হবে ভাগাভাগি। এত সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে গত মৌসুমে ইজারার বাইরে গজারিয়ার হোগলাকান্দি ও বাউশিয়া পাখিমোড়ে হাট বসে অবৈধভাবে। এবারও এই দুটো হাট বসানোর পায়তারা চলছে। এদিকে জেলা পাঁচটি উপজেলার কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা হলেও গজারিয়া উপজেলা পরিষদ তা করেনি। এর কারণ হিসাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত মাহবুবা বিলকিস বলেছেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী গরুর হাটের সম্ভাব্য মূল্যে কম হওয়ায় পত্রিকায় প্রকাশ হয়নি।

ইউএনও অফিস জানায়, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্ভাব্য দর হলে পত্রিকায় প্রকাশ করা যেত। কিন্তু সবগুলো হাটের সম্ভাব্য এই দর দুই লাখ টাকার কিছু বেশী। তাই পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়নি। ইউপজেলা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, নিয়ম অনুসারে প্রতিযোগিতা করে হাট ইজারা দেয়া হয় তবে একটি হাটের ইজারাই হবে দশ লাখ টাকার বেশী। সেই টার্গেড ধরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যাপক প্রচার করে সিন্ডিগেট ভেঙ্গে দেয়া গেলে সরকার লাভবান হত। সেই উদ্যোগ যাঁদের নেয়ার কথা তারাইতো এর সাথে জড়িত! তাই অর্থলোভী চক্র কোনভাবেই এই দর না বাড়িয়ে নিজেদের পকেটভারি করছে।

সূত্রটি জানায় ভবেরচর স্থায়ী গরুর হাট যদি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা হতে পারে জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ন এলাকার বাকী কোরবানীর পশুর হাটের মূল্য এত কম হতে পারে না। এব্যাপারে জিতু খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ

Comments are closed.