‘পদ্মা সেতু নিয়ে দুদকের রায়ে বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য নেই’

world bankবিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাট বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুদকের রায়ের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কোনো মন্তব্য নেই। কেননা সরকার নিজস্ব পদ্ধতিতে তদন্ত করে রায় দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সোমবার ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সঙ্গে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোহানেস জাট বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১ দশক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ইনকাম লেবেল ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের ভাল। মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রগতি হয়েছে। এগুলো অন্যতম অর্জন। কিন্তু রাজস্ব আহরণ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী ভাল নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য নিরসন হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ২ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগ হচ্ছে। এগুলো অর্থনীতির ভাল নির্দেশক। কিন্তু সুশাসনের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, সালমান জাইদী, যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরিন এ মাহবুব এবং ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ সম্পাদক জাগরন চাকমা।

কান্ট্রি ডিরেক্টর আরও বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে চার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে— বিভাজিত রাজনীতি যা যেকোনো সময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং তা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, এর ফলে অনেক সিদ্ধান্তই দেরী হয় এবং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। অতি মুনাফা লোভী প্রবণতা, যা বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে। কেননা বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, নির্বাচন কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তৈরি হয় তখন বাংলাদেশ ছিল নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। এখন বাংলাদেশ যেহেতু মধ্যম আয়ের দেশে হতে চাচ্ছে, সেহেতু এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে চলবে না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার।

অবকাঠামো খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে এখনও অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন ঘটাতে হবে। জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। যদিও উৎপাদনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বন্দর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। চট্রগ্রাম বন্দর সক্ষমতা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড যেটি বাংলাদেশের লাইফলাইন সেটির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি হতে হবে ৯ শতাংশ। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) জোর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইকোনমিক জোন তৈরির কথা বলা হয়েছে।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.